বঙ্গে SIR শেষে কিভাবে বদলাচ্ছে নির্বাচনের সমীকরণ ?

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR)-এর প্রথম ধাপ শেষ হতেই রাজ্য (West Bengal voter list revision)রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ভুয়ো…

west-bengal-voter-list-revision-sir-phase-1-2

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR)-এর প্রথম ধাপ শেষ হতেই রাজ্য (West Bengal voter list revision)রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষ ভুয়ো নাম বাদ পড়েছে—এই তথ্য সামনে আসতেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখানেই শেষ নয়। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ লক্ষের বেশি ভোটার এখন ‘স্ক্রুটিনি’র আওতায়, যাদের নথিতে বিভিন্ন ধরনের অমিল ধরা পড়েছে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে।

Advertisements

এই বিপুল সংখ্যার প্রভাব কতটা বড়, তা বোঝাতে একটি অঙ্কই যথেষ্ট বাংলার ২৯৪টি বিধানসভা আসনে গড়ে প্রায় ২০ হাজার ভোটার করে ইতিমধ্যেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই পরিসংখ্যান ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করলে ছবিটা আরও স্পষ্ট হয়।

   

শুভেন্দুর থেকে পদ্ম নিয়ে তৃণমূলের মঞ্চে হুঙ্কার সুনীলের

সে বছর বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ৫৮.৫ লক্ষ, আর প্রতি আসনে গড় ব্যবধান দাঁড়িয়েছিল ৩১,৭৬০ ভোট। অর্থাৎ, ভোটার তালিকার এই সংশোধন ভবিষ্যৎ নির্বাচনে ফলাফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের।

দ্বিতীয় ধাপে যাঁরা স্ক্রুটিনির আওতায় পড়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)-এর তরফে নোটিস পাঠানো হবে। নোটিসে জানানো হবে, কেন তাঁদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে না—তার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা ও প্রামাণ্য নথি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ঠিকানা, বয়স, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি কিংবা ডুপ্লিকেট এন্ট্রি এই ধরনের কারণেই মূলত স্ক্রুটিনি চলছে বলে জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, স্বচ্ছ ও নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরিই SIR-এর মূল উদ্দেশ্য। ভুয়ো বা অযোগ্য নাম বাদ পড়লে প্রকৃত ভোটারদের অধিকার আরও সুরক্ষিত হবে এটাই কমিশনের দাবি। তবে বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটাররা যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পরিযায়ী শ্রমিক ও শহরতলির ভাড়াটে বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে নথিগত জটিলতা বেশি দেখা যায় এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা বলছেন, প্রতিটি নোটিসের জবাব আইনি পথে দেওয়া হবে এবং যোগ্য ভোটারদের নাম যাতে কোনওভাবেই বাদ না যায়, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল; SIR সেই সমস্যার সমাধানে একটি জরুরি পদক্ষেপ। বাম ও কংগ্রেসও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধনের এই দুই ধাপ কেবল প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় ধাপের স্ক্রুটিনি শেষ হয়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। সাধারণ ভোটারদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সময়মতো নোটিসের জবাব দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা।

Advertisements