
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপের সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছে। বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ছিল এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যেই বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) জমা পড়া ফর্ম সংগ্রহ করে নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে আপলোড করেছেন। এখন রাজ্যের নজর ১৬ ডিসেম্বরের দিকে—সেই দিন প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। তালিকায় নিজের নাম থাকবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ ভোটারের মধ্যে তৈরি হয়েছে স্বাভাবিক উৎকণ্ঠা।
অনলাইন ও অফলাইন, দুই পদ্ধতিই খোলা
কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকায় নাম খুঁজতে অনলাইন ও অফলাইন—দুই পদ্ধতিই খোলা থাকবে। অনলাইনে দেখতে হলে যেতে হবে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট eci.gov.in-এ, যেখানে নাম বা EPIC নম্বর বসালেই জানা যাবে খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে কি না। একইভাবে সিইও ওয়েস্ট বেঙ্গলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের (DEO) পোর্টাল এবং ইসিআই-এর নেট অ্যাপেও পাওয়া যাবে তালিকা। তবে অনলাইনে সমস্যা হলে ভোটারদের ভরসা বুথ লেভেল অফিসার। প্রতিটি এলাকার বিএলও-র কাছে খসড়া তালিকার হার্ড কপি দেওয়া থাকে, সেখান থেকেই ভোটাররা যাচাই করতে পারবেন। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা এবং বিএলএ-দের কাছেও তালিকার কপি থাকে—স্বীকৃত দলগুলির কাছে সফট কপি এবং বিএলএ-দের কাছে হার্ড কপি।
বাদপড়া তালিকাও প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন West Bengal Voter List 2026 Release Date
খসড়া তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়বে, তাদের জন্য আলাদা একটি বাদপড়া তালিকাও প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। কোনও ভোটার যদি মনে করেন—নাম ভুলবশত বাদ পড়েছে, বা তথ্য নিয়ে আপত্তি রয়েছে—তাহলে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দাবি-আপত্তি জমা দেওয়া যাবে। যাদের নাম তালিকায় নেই, তারা অনলাইনে ফর্ম ৬ এবং অ্যানেক্সার ৪ পূরণ করে ফের অন্তর্ভুক্তির আবেদন করতে পারবেন।
১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে হিয়ারিং পর্ব। যেসব ভোটারের ২০০২ সালের পুরনো তালিকায় নিজের বা পরিবারের নাম পাওয়া যায়নি, বা যাদের তথ্য নিয়ে কমিশনের সন্দেহ রয়েছে, তাদের ইআরও-রা শুনানিতে ডাকবেন। এই প্রক্রিয়া চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সব দাবি-আপত্তির নিষ্পত্তি শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, যার ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনে ভোটদান হবে।










