২০২৬ সালের বিধানসভা (West Bengal) নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতির আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে নানা জোট জল্পনা। দুই মুসলিম সাংসদ নওশাদ সিদ্দিকি ও হুমায়ুন কবীর পরস্পরের সঙ্গে জোটের দরজা খুলে দিয়েছেন। পাশাপাশি তাঁরা কংগ্রেসকেও বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। এই আবহে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকও ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টের কথা বলছেন। মুর্শিদাবাদের সভা থেকে হুমায়ুন কবির কৌশলে কংগ্রেসের কোর্টে বল ছুড়ে দেন।
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে এবং রাজ্যে বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই চাইছে সাধারণ মানুষ। এই প্রেক্ষাপটে কংগ্রেসের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তাই বাংলাকে বাঁচাতে হলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আলোচনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম জেলাগুলিতে কংগ্রেসকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মানুষের সম্মিলিত ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। তাই কংগ্রেসের দ্রুত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।”
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে সিপিএম ও কংগ্রেস জোটবদ্ধভাবে লড়লেও আইএসএফ থেকে কংগ্রেস দূরত্ব বজায় রেখেছিল। তবে সিপিএমের সমর্থনে আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকি জয়ী হন। ২০২৬ নির্বাচনের আগে নওশাদ সিদ্দিকি ও নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসা হুমায়ুন কবীর দু’জনেই সিপিএম ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের দরজা খোলা রাখার বার্তা দিয়েছেন।
নওশাদ সিদ্দিকি জানান, “বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে হলে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলিকে একত্রিত হতে হবে, যাতে কম পরিশ্রমে বেশি রাজনৈতিক ফল পাওয়া যায়। এই বার্তা জাতীয় কংগ্রেস, বামফ্রন্ট ও অন্যান্য ধর্মনিরপেক্ষ শক্তির কাছেও পাঠানো হয়েছে।”
সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম কংগ্রেসের দিকে বল ছুড়ে দিয়েছেন। সেই প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার জানিয়েছেন, ‘আলোচনা করেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের রূপরেখা ঠিক হবে নীতি, আদর্শ ও অন্যায়ের প্রতিবাদকে সামনে রেখে’।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ ও হুমায়ুন কবীর একসঙ্গে লড়াই করলে তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কে চাপ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ , ধর্মের নামে বিভাজন তৈরি করে বিজেপির বিরোধী ভোট কেটে নেওয়ার খেলা চলছে, যার লাভ বিজেপিই পাচ্ছে। তৃণমূল, বিজেপি ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। আগামী কয়েক মাসে কারা কার হাত ধরবে, তা স্পষ্ট হয়ে যাবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
