বঙ্গে সাংসদ তহবিলের টাকা নয়ছয়! কাঠগড়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে

এমপিল্যাডস পোর্টালের তথ্য ঘিরে তহবিল খরচ ও কাজের প্রমাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তৃণমূল সাংসদ Kirti Azad–কে ঘিরে। অভিযোগ, কোটি টাকার বরাদ্দ থাকলেও বহু প্রকল্পের বাস্তব কাজের কোনও দৃশ্যমান নথি নেই।

west-bengal-mplads-fund-misuse-kirti-azad-controversy

পশ্চিমবঙ্গে সাংসদ উন্নয়ন তহবিল (এমপিল্যাডস) ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কীর্তি আজাদ। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান–দুর্গাপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ এবং প্রাক্তন বিহার মুখ্যমন্ত্রী ভগবত ঝা আজাদের পুত্র। এমপিল্যাডস পোর্টালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর সাংসদত্বের সময়কালে তহবিল বরাদ্দ ও ব্যয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক এবং কাজের দৃশ্যমান প্রমাণের অভাব ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠছে।

১৮তম লোকসভায় সাংসদ হিসেবে কীর্তি আজাদের জন্য মোট বরাদ্দ করা হয়েছিল ১২.২৫ কোটি টাকা। সরকারি এমপিল্যাডস ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে প্রায় ১.২০ কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে উল্লেখ রয়েছে যে মোট ১১৩টি প্রকল্পের সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু চাঞ্চল্যকর বিষয় হল—এই বিপুল সংখ্যক প্রকল্পের মধ্যে মাত্র ২টি প্রকল্পকে ‘কমপ্লিটেড’ বা সম্পূর্ণ হয়েছে বলে দেখানো হয়েছে।

   

সবচেয়ে বড় অভিযোগ উঠেছে এই দুইটি সম্পূর্ণ হওয়া প্রকল্প নিয়েও। এমপিল্যাডস নিয়ম অনুযায়ী, কোনও প্রকল্প শেষ হলে তার ছবি, জিও-ট্যাগ, কাজের অগ্রগতি সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ পোর্টালে আপলোড করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলির ক্ষেত্রে কোনও ছবিই নেই। নেই জিও-ট্যাগ বা কাজের বাস্তব অস্তিত্ব প্রমাণ করার মতো কোনও তথ্য।

সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই দুইটি প্রকল্পে প্রায় ১৫.৯৭ লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। পোর্টালে একাধিক ক্ষেত্রে ‘পেমেন্ট সাকসেস’ লেখা থাকলেও, বাস্তবে কাজ হয়েছে কি না, তা যাচাই করার মতো কোনও দৃশ্যমান প্রমাণ নেই। ফলে প্রশ্ন উঠছে—যদি কাজ সত্যিই হয়ে থাকে, তবে তার ছবি বা নথি কোথায়? আর যদি কোনও প্রমাণ না থাকে, তবে আদৌ কাজ হয়েছে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে।

এই প্রসঙ্গে বিরোধী মহলের অভিযোগ, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক গাফিলতি নয়, বরং সরকারি অর্থের সম্ভাব্য নয়ছয়ের ইঙ্গিত। তাঁদের মতে, এমপিল্যাডস প্রকল্পে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা ব্যবহৃত হয়। তাই প্রতিটি পয়সার হিসাব এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সাংসদের দায়িত্ব। অথচ এখানে কোটি টাকার বেশি ব্যয় দেখানো হলেও প্রকল্পের বাস্তব চিত্র অন্ধকারে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, অনেক সময় প্রশাসনিক কারণে পোর্টালে তথ্য আপডেট হতে দেরি হয়। কাজ বাস্তবে হয়েছে, কিন্তু ছবি বা নথি আপলোড করা বাকি থাকতে পারে—এমন ব্যাখ্যাও দেওয়া হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এমপিল্যাডস প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা কোনও ঐচ্ছিক বিষয় নয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। তা না হলে সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

এই ঘটনাকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বহু নেটিজেন প্রশ্ন তুলছেন—জনগণের অর্থ ব্যয় হলে তার প্রমাণ জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে না কেন? স্বচ্ছতা কি শুধুমাত্র কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে?

সব মিলিয়ে, বর্ধমান–দুর্গাপুরের সাংসদের এমপিল্যাডস তহবিল ব্যবহার নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা শুধু একজন জনপ্রতিনিধির নয়, গোটা ব্যবস্থার জবাবদিহি নিয়েই বড় বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। এখন দেখার, প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর এই অভিযোগের কী ব্যাখ্যা দেয় এবং আদৌ কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন