Relief in Vegetable Prices in the North, Rising Costs in the South
আজ, ১ এপ্রিল ২০২৫, মঙ্গলবার, পশ্চিমবঙ্গের সবজি বাজারে দামের (vegetable prices) উত্থান-পতন জনজীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সবজির দামে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, যা গৃহস্থ পরিবারের দৈনন্দিন বাজেটে বড় প্রভাব ফেলছে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের তথ্য এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং উৎপাদনের ঘাটতি এই দাম বৃদ্ধির পিছনে প্রধান কারণ। আসুন, রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের আজকের সবজির দামের একটি বিস্তারিত চিত্র দেখে নিই।
উত্তরবঙ্গের বাজার: আলু-পটলের দামে (vegetable prices) স্বস্তি, টমেটোর চড়া মূল্য
উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ির বাজারে আজ আলুর দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫-৩০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। পটলের দামও ৩৫-৪০ টাকা প্রতি কেজি, যা সাধারণ মানুষের কাছে স্বস্তির। তবে টমেটোর দাম চড়া রয়েছে—প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, দক্ষিণ ভারত থেকে টমেটো আমদানি কমে যাওয়ায় এই দাম বেড়েছে। কোচবিহার ও মালদায় সবুজ শাক, যেমন পালং, ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মধ্য বঙ্গ: গরমে উৎপাদন কম, দামে আগুন
মধ্য বঙ্গের জেলাগুলি, যেমন মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং নদিয়ায় সবজির দামে (vegetable prices) তীব্র উত্থান দেখা গেছে। বেগুনের দাম গত সপ্তাহে ৫০ টাকা কেজি থাকলেও আজ তা ৭০-৮০ টাকায় পৌঁছেছে। ঝিঙে এবং কুমড়োর দামও দ্বিগুণ হয়ে ৮০-৯০ টাকা কেজি হয়েছে। ব্যবসায়ী সুশান্ত রায় জানান, “গরম এবং বৃষ্টির অভাবে ফসল নষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র গাছগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” এই অঞ্চলে পেঁয়াজের দামও ৪৫-৫০ টাকা কেজি, যা গত মাসের তুলনায় ২০% বেশি।
পশ্চিমাঞ্চল: তাপপ্রবাহে সবজির সংকট
পশ্চিম বঙ্গের জেলাগুলি, যেমন বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপপ্রবাহের কারণে সবজির উৎপাদন কমেছে। ফুলকপির দাম ৬০-৭০ টাকা কেজি, যেখানে গত বছর এই সময়ে তা ৩৫-৪০ টাকা ছিল। বাঁধাকপি ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষক কার্তিক সিং বলেন, “তীব্র গরমে ফসল শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের উৎপাদন ৪০-৫০% কমে গেছে।” এই অঞ্চলে ঢ্যাঁড়শ এবং করলার দামও ৭০-৮০ টাকা কেজি, যা গৃহস্থদের জন্য চিন্তার বিষয়।
সিএনজি গাড়ির মালিকদের ‘দুঃসংবাদ’ দিয়ে বাড়ছে গ্যাসের দাম
কলকাতা ও আশপাশ: আর্দ্রতায় অস্বস্তি, দামে চাপ
কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলির বাজারে সবজির দাম গরম এবং উচ্চ আর্দ্রতার কারণে বেড়েছে। আলুর দাম ৩০-৩৫ টাকা কেজি, যা সাশ্রয়ী হলেও টমেটোর দাম ১২০-১৪০ টাকা কেজি। পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা লঙ্কার দামও আকাশছোঁয়া—প্রতি কেজি ২০০-২৫০ টাকা। বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, “অন্য রাজ্য থেকে সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বাড়ছে।” ফুলকপি এবং বাঁধাকপির দাম যথাক্রমে ৬৫ এবং ৫৫ টাকা কেজি।
দক্ষিণবঙ্গের উপকূল: সমুদ্রের প্রভাবে দামে ওঠানামা
পূর্ব মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপকূলীয় বাজারে সমুদ্রের আর্দ্রতার প্রভাবে সবজির দামে মিশ্র প্রভাব পড়েছে। আলু ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে স্থিতিশীল থাকলেও টমেটো ১১০-১৩০ টাকা কেজি। করলা এবং ঝিঙে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা রমেন মণ্ডল বলেন, “গরমে সবজি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দাম বেশি হওয়ায় কেনা কষ্টকর।”
বাজারে সরকারি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা
রাজ্য সরকার সবজির দাম নিয়ন্ত্রণে একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। টাস্ক ফোর্সের সদস্য রবীন্দ্রনাথ কোলে জানান, “আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। শীঘ্রই বাজারে অভিযান চালানো হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্ষা শুরু হলে উৎপাদন বাড়বে এবং দাম কমবে। সুফল বাংলার মতো সরকারি খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে টমেটো ১০০ টাকা এবং কাঁচা লঙ্কা ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারের তুলনায় কিছুটা সস্তা।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সংকট আরও গভীর হতে পারে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন, কৃষকদের জন্য সেচ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং তাপ-সহনশীল ফসলের জাত ব্যবহার করা প্রয়োজন। এছাড়া, সরকারের উচিত বাজারে মজুতদারি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
পশ্চিমবঙ্গে আজকের সবজির দাম সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় চিন্তার বিষয়। আলু এবং পেঁয়াজের মতো কিছু সবজি সাশ্রয়ী থাকলেও টমেটো, লঙ্কা এবং অন্যান্য সবজির দামে অস্বস্তি বাড়ছে। সরকারি হস্তক্ষেপ এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনই এখন এই সংকট থেকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে। তবে, বর্তমানে গৃহস্থদের পকেটে চাপ অব্যাহত রয়েছে।