কলকাতা: ভারতীয় রেলের ইতিহাসে সূচিত হল এক সোনালি অধ্যায়। গতানুগতিক রেলযাত্রার ক্লান্তি মুছে দিয়ে এবার ট্রেনের কামরাতেই মিলবে বিলাসিতার ছোঁয়া। গত ১৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে যাত্রা শুরু করল দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেন। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সংযোগকারী এই ট্রেনটি হাওড়া জংশন থেকে কামাখ্যা (গুয়াহাটি) পর্যন্ত চলাচল করবে। মূলত পর্যটক এবং তীর্থযাত্রীদের কথা মাথায় রেখে চালু হওয়া এই ট্রেনটি পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বিরাট বিপ্লব আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যাত্রার সময় কম
রেল সূত্রে খবর, বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি এই দীর্ঘ রুটে যাত্রার সময় প্রায় আড়াই ঘণ্টা কমিয়ে দেবে। তবে শুধু গতি নয়, যাত্রীদের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই ট্রেনের অত্যাধুনিক পরিষেবা। প্রথম বাণিজ্যিক যাত্রার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীদের মধ্যে বিপুল উন্মাদনা লক্ষ্য করা গিয়েছে। বুকিং শুরু হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রেনের প্রতিটি শ্রেণির টিকিট বিক্রি হয়ে গিয়েছে। আগামী ২২ জানুয়ারি কামাখ্যা থেকে এবং ২৩ জানুয়ারি হাওড়া থেকে এই ট্রেনটি তার নিয়মিত বাণিজ্যিক সফর শুরু করতে চলেছে।
বিশ্বমানের ট্রেন Vande Bharat Sleeper Fully Booked
প্রযুক্তিগত দিক থেকে এই ট্রেনটি বিশ্বমানের। ১৬টি কোচের এই ট্রেনে রয়েছে ১১টি এসি ৩-টায়ার, ৪টি এসি ২-টায়ার এবং ১টি ফার্স্ট ক্লাস এসি কোচ। ট্রেনটির অন্দরসজ্জায় ব্যবহৃত হয়েছে উন্নতমানের জিএফআরপি প্যানেল। যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য এতে মোতায়েন রয়েছে ‘কবচ’ সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা। তবে সবচেয়ে নজর কেড়েছে ট্রেনের বিশেষ ‘স্মার্ট গ্লাস’ প্রযুক্তি। ট্রেনের কেবিনের দরজায় থাকা কাঁচের স্বচ্ছতা যাত্রীরা একটি বোতাম টিপেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। অর্থাৎ বাইরে থেকে কে কেবিনের ভেতর দেখবে বা দেখবে না, তা পুরোপুরি যাত্রীদের হাতে। এ ছাড়াও আরামদায়ক বার্থ, বায়ো-ভ্যাকুয়াম টয়লেট এবং প্রতিটি বার্থে ব্যক্তিগত আলো ও চার্জিং পয়েন্টের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
আঞ্চলিকতার ছোয়া
খাবারের তালিকায় রাখা হয়েছে আঞ্চলিক ছোঁয়া। কলকাতা থেকে যাত্রার সময় যাত্রীদের পাতে পড়বে বাঙালি খাবার, অন্যদিকে অসম থেকে যাত্রার সময় মিলবে স্থানীয় অসমীয়া পদের স্বাদ। তবে এই বিলাসবহুল সফরের জন্য রেলের নিয়মকানুন বেশ কড়া। এই ট্রেনে কোনো ভিআইপি কোটা বা রেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য বিশেষ পাসের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। শুধুমাত্র কনফার্মড টিকিট থাকলেই যাত্রীরা ট্রেনে প্রবেশ করতে পারবেন। পাশাপাশি টিকিট বাতিলের ক্ষেত্রেও রয়েছে কড়া নিয়ম, যাত্রার ৮ ঘণ্টা আগে টিকিট বাতিল করলে কোনো রিফান্ড পাওয়া যাবে না।
ভাড়ার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য রেখেছে রেল। দূরত্ব অনুযায়ী এসি ৩-টায়ারের ভাড়া শুরু হচ্ছে ৯৬০ টাকা থেকে এবং দীর্ঘ যাত্রার ক্ষেত্রে ফার্স্ট ক্লাসের ভাড়া সর্বোচ্চ ৩,৮০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। নিউ জলপাইগুড়ি, মালদা টাউন, আজিমগঞ্জ ও নবদ্বীপ ধামের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি স্টেশনে ট্রেনটি থামবে। রেল কর্তৃপক্ষের আশা, এই নতুন পরিষেবা উত্তর-পূর্ব ভারতের পর্যটন শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে।
