
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গাড়িতে হামলার অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাটি শুধু পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতেই নয়, দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে। বিজেপি নেতা শুভেন্দুর অভিযোগ, তাঁর গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে, এবং এ ঘটনার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে। হামলার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভে নেমেছেন। এরই মধ্যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক অমিত শাহের নির্দেশে রিপোর্ট চাওয়ার পর এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে নতুন তর্ক-বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার, যখন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পুরুলিয়া জেলার একটি কর্মসূচি সেরে ফিরছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা রোডে তাঁর গাড়ি যখন পৌঁছায়, তখন রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ছিলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেই সময়, রাস্তার অপর পাশে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে বেশ কয়েকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। অভিযোগ, শুভেন্দুর গাড়ি আসার পর তৃণমূলের সমর্থকরা হামলা চালায়।
বিরোধী দলনেতার দাবি, হামলাকারীরা মোট ১২-১৫ জন ছিলেন এবং তারা পরিকল্পিতভাবে গাড়িতে আক্রমণ করেন। শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) অভিযোগ, এই হামলা পুলিশের মদতে ঘটেছে। তিনি আরও দাবি করেন, হামলাকারীদের কাছে পেট্রল ও ডিজেল ছিল, যা সেই সময়ের পরিস্থিতিতে সন্দেহের সৃষ্টি করে। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, ‘‘এটি একটি স্পষ্টভাবে পরিকল্পিত হামলা। পুলিশের সহায়তায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা এটি করেছে।’’ ঘটনার পর, শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তৎপরতা দেখিয়ে রিপোর্ট চেয়েছে। অমিত শাহের মন্ত্রক, শুভেন্দুর(Suvendu Adhikari) অফিস থেকে একাধিক ভিডিও ফুটেজ চেয়ে পাঠিয়েছে। এই ভিডিও ফুটেজগুলি ইডি বা সিবিআইয়ের তদন্তের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে দেখা হতে পারে।
এছাড়া, বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছে যে এই হামলার পেছনে তৃণমূল কংগ্রেসের হাত রয়েছে এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিরোধী দলের নেতাদের নিশানা করছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রক থেকে সঠিক তদন্তের নির্দেশ আসলে, বিষয়টি আরও জটিল আকার নিতে পারে। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) গাড়িতে হামলার ঘটনার পর, বিজেপি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছে। শনিবার থেকেই বিজেপি কর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় নামেন। পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, কলকাতা সহ বেশ কিছু শহরে বিক্ষোভ হয়। বিজেপি কর্মীরা সড়ক অবরোধ এবং প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করেছেন, যেখানে তারা তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়েছেন এবং পুলিশ ও তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
তবে সেটা পুলিশের উপর নির্ভরশীল একটি বিষয় এবং এটি আদালত বা পুলিশ তদন্ত করবে।’’ এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ঘটনাটির তদন্ত কেমন হবে। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেছেন, ‘‘যেহেতু পুলিশ মদত দিয়েছে, তাই আমি নিশ্চিত যে তদন্ত সঠিক পথে হবে না।’’ অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া উচিত। এরই মধ্যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এর রিপোর্ট চেয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। শুধু রাজ্য নয়, কেন্দ্রীয় সরকারও এই ঘটনার তদন্ত করতে চাইছে, এবং যদি তদন্তে কিছু গুরুতর বিষয় উঠে আসে, তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে।










