মৌসমের দলবদলের নেপথ্যে কার হাত? তৃণমূলের মন্তব্য ঘিরে তোলপাড়

সদ্যই রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন মৌসম নূর (Mausam Noor) । মালদা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন মাত্র কয়েক মাসের জন্য। কিন্তু সেই…

Congress Faces Major Fallout as Mousumi Returns, TMC Sees Influx of Leaders

সদ্যই রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন মৌসম নূর (Mausam Noor) । মালদা জেলার তৃণমূল কংগ্রেসে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন মাত্র কয়েক মাসের জন্য। কিন্তু সেই দায়িত্ব কিছুদিনই ধরে রাখতে পেরেছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবারও দলবদল করে কংগ্রেসে যোগদান করেছেন, যা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই ঘটনা শুধু রাজনৈতিক মহলে নয়, সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেরও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Advertisements

মৌসম নূর (Mausam Noor) সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “পুরো পরিবার একসঙ্গে মিলিত হয়ে রাজনীতিতে লড়াই করবে — সেই কারণেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এটি একটি পারিবারিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার মাধ্যমে তিনি পরিবারকে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রাখতে চান। তবে স্থানীয় তৃণমূল নেতা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অন্য একটি ছবি তুলে ধরেছে।

   

মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশিস কুন্ডু একটি বিস্ফোরক দাবী করেছেন। তিনি বলেন, “মৌসম নূরকে কংগ্রেসে নিয়ে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাকে জেলা সভাপতি এবং রাজ্যসভার সাংসদ করা হয়েছিল। এখন কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ায় প্রমাণ হচ্ছে, তাঁর এই পদক্ষেপে মূল ভূমিকা রেখেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক সুবিধা দেখেই তিনি এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।”

আশিস কুন্ডুর আরও দাবি, “কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা এবং ভরাডুবির সুযোগ নিয়ে, মৌসম তৃণমূলকে ব্যবহার করেছেন। দলের পদে ও সাংসদ হিসেবে সুবিধা গ্রহণের পরও, শুভেন্দু অধিকারীর প্রভাবেই আবার কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।” এই দাবী তৃণমূলের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, মৌসম নূরের সিদ্ধান্ত স্বতঃস্ফূর্ত নয়, বরং এটি শুভেন্দু অধিকারীর কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ।

অনেকে মনে করছেন, এটি তৃণমূলের ক্ষমতা ও প্রভাব আরও শক্তিশালী করার একটি কৌশল। অন্যদিকে, কংগ্রেসের কর্মীরা মনে করছেন, এটি তাদের দলের জন্য এক ধরনের নতুন সুযোগও সৃষ্টি করতে পারে।

এছাড়া রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এই ধরনের দলবদল প্রায়শই রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নেতা এবং দলের অভ্যন্তরীণ সম্পর্কের সমীকরণ রাজনৈতিক পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করে। মালদা জেলার এই সাম্প্রতিক ঘটনা রাজনৈতিক মহলে এবং সংবাদ মাধ্যমে এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

 

 

Advertisements