বেআইনি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার তৃণমূল নেতা

টিটাগড়: বেআইনি অস্ত্র রাখার অভিযোগে ফের উত্তাল টিটাগড়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে টিটাগড় পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার আরমান মণ্ডলের (TMC Leader) দাদা খুররম মণ্ডলকে। পুলিশের দাবি, অস্ত্র পাচারের উদ্দেশ্যে বরানগর এলাকায় একত্রিত হয়েছিল খুররম-সহ একাধিক দুষ্কৃতী। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে অভিযান চালায় টিটাগড় থানার পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় খুররম, কুখ্যাত দুষ্কৃতী আহমেদ আলি ওরফে চুনুয়া, সাদ্দাম হোসেন, মহম্মদ মনসুর ও মহম্মদ আলি ওরফে মুন্নাকে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে একটি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও আরও কিছু বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশ চুনুয়ার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল। চুনুয়ার বিরুদ্ধে একাধিক খুন, তোলাবাজি এবং সন্ত্রাসের অভিযোগ রয়েছে। মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করেই এই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এই পুরো চক্রটি অস্ত্র পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।

   

খুররম মণ্ডলকে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে এই কারণে যে তিনি তৃণমূল কাউন্সিলার আরমান মণ্ডলের দাদা। কয়েকদিন আগেই নিজের বাড়িতে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কাউন্সিলার নিজে। ফলে এই পরিবারের সঙ্গে অপরাধ জগতের যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শাসকদলের বিরোধীরা তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল নেতাদের ছত্রছায়ায় অপরাধীরা বেড়ে উঠছে। অন্যদিকে, টিটাগড় পুরসভার পুরপ্রধান কমলেশ সাউ জানিয়েছেন, “খুররম কোনও রাজনৈতিক দলে নেই। কাউন্সিলারের দাদা হলেও যদি সে অপরাধ করে থাকে, আইন তার নিজের পথে চলবে।” তবে প্রশ্ন উঠেছে, যদি খুররম রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় না হন, তবে শাসকদলের একাধিক নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ছবি কীভাবে ছড়াল?

এই নিয়ে পুরপ্রধানের মন্তব্য, “খুররমের সঙ্গে অর্জুন সিং-এর ছবিও আছে। তাহলে সে কোন দলে? ও এখন কোনও দলে নেই।” যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছে, ছবির বক্তব্য অস্বীকার করে লাভ নেই। খুররম অতীতে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ছিলেন, এবং তার অপরাধমূলক কার্যকলাপ তৃণমূলের কিছু অংশের প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠেছে বলেই অভিযোগ।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। অস্ত্র পাচার চক্রে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা চলছে। চুনুয়া ও খুররমের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা ছিল বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্কের আগুন ছড়িয়েছে।

বিরোধীদের প্রশ্ন, তৃণমূল বারবার অপরাধীদের আশ্রয় দিচ্ছে কি না? তৃণমূল যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, কেউ অপরাধ করলে তার শাস্তি হবে, দল তার পাশে দাঁড়াবে না। তবে এই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব যে রাজ্য রাজনীতিতে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন