
স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্য রাজনীতির সংঘাত এবার পৌঁছল নির্বাচন কমিশনের দরবারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির পাল্টা হিসেবে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সেই চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করে তিনি সরাসরি দাবি করেন, SIR নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় “লাগাতার মিথ্যা” বলছেন এবং তাঁর সর্বশেষ দাবি খারিজ করা উচিত।
SIR প্রক্রিয়া বন্ধের আবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী SIR প্রক্রিয়া বন্ধের যে আবেদন জানিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর কথায়, “আমি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেছি, SIR বন্ধ করে দেওয়ার দাবি সংক্রান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বশেষ চিঠিটি যেন খারিজ করে দেওয়া হয়। SIR নিয়ে তাঁর তথাকথিত উদ্বেগ আদতে মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছুই নয়।”
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ‘নোংরা রহস্য’ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটারকে জীবিত দেখানো, অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় জায়গা করে দেওয়া এবং তাদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার—এই সব বিষয় এখন “কাচের মতো স্বচ্ছ” হয়ে গিয়েছে। শুভেন্দুর তীব্র কটাক্ষ, “২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে স্বপ্ন, তার কফিনে পেরেক ঠুকে দিয়েছে এই SIR। তাই তিনি আতঙ্কিত, প্যানিক করছেন।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠি suvedu adhikari writes a letter to cec
অন্যদিকে, রবিবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সাড়ে তিন পাতার একটি চিঠি পাঠিয়ে SIR প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে সংশোধন না আনা হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপূরণীয় ক্ষতি হবে এবং বহু বৈধ ভোটার ভোটাধিকার হারাতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগের তালিকাও বিস্তৃত। তাঁর দাবি, বিহারে যেখানে বংশতালিকা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, সেখানে বাংলায় তা মানা হচ্ছে না। এছাড়াও অভিযোগ, কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই নির্বাচন কমিশনের তরফে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে। নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
BLA উপস্থিতি নিষিদ্ধ
শুনানি প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল এজেন্টদের (BLA) উপস্থিতি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে, যা স্বচ্ছতার পরিপন্থী—এমন অভিযোগও রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিতে। পাশাপাশি, SIR আধিকারিকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না দেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
সব মিলিয়ে, ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক যে আরও রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াবে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।









