
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশ অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)-কে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করার আদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত বা মুলতুবি রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে আদালতের অনুমতি ব্যতীত SSC কোনও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারবে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই মামলার মৌলিক শুনানি কলকাতা হাইকোর্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হবে। এর অর্থ হলো, হাইকোর্টই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেবে যে কোন প্রার্থীরা তালিকাভুক্ত হবেন এবং প্রকাশিত তালিকা বৈধ হবে কিনা। এই ধরনের নির্দেশ প্রায়শই তখনই আসে যখন সংবিধান বা নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়ায় কোনো জটিলতা থাকে এবং প্রার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া প্রয়োজন হয়। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, সব পক্ষকে তাদের জবাব সরবরাহ করতে হবে হলফনামা আকারে। অর্থাৎ, মামলার যুক্তি, প্রমাণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতের নিকট লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালত নিশ্চিত হবে যে সকল পক্ষের দাবিই যথাযথভাবে বিবেচিত হয়েছে। এই ধরনের হলফনামা প্রায়শই প্রশাসনিক, নিয়োগ বা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
SSC বা স্কুল সার্ভিস কমিশনকে দেওয়া এই নির্দেশের প্রেক্ষাপটে, প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। যারা দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তারা চাইছেন তাদের অধিকার নিশ্চিত করা হোক। সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ এই প্রক্রিয়াকে সাময়িকভাবে থামিয়েছে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কলকাতা হাইকোর্টের মাধ্যমে নেওয়া হবে।
বিচারপতি অমৃতা সিনহার নির্দেশে মূলত লক্ষ্য ছিল উপযুক্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা। তবে, বিভিন্ন পক্ষ থেকে আপত্তি ও চ্যালেঞ্জের কারণে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ সমস্ত পক্ষের যুক্তি ও নথি যাচাই করে **আংশিক স্থগিতাদেশ জারি করেছে। এই ধরণের পদক্ষেপ প্রায়শই প্রশাসনিক ও নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় প্রযোজ্য হয়, যাতে প্রার্থীদের স্বার্থ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার ন্যায্যতা উভয়ই সুরক্ষিত থাকে।








