অমর্ত্য সেনের বাড়িতে হঠাৎ কমিশনের প্রতিনিধি দল

শুনানির জন্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে (Amartya Sen) তলব করার খবর সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে যায় তীব্র শোরগোল। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী…

Election Commission Officials Inspect Amartya Sen’s Bolpur House

শুনানির জন্য নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে (Amartya Sen) তলব করার খবর সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে যায় তীব্র শোরগোল। রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী সমাজ সব স্তরেই এই ঘটনাকে ঘিরে ওঠে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা। অবশেষে শুক্রবার সকালে অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের বাড়িতে পৌঁছয় তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তবে সেই সময় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন না।

Advertisements

সূত্রের খবর, নির্ধারিত শুনানির প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কমিশনের এই প্রতিনিধি দল শান্তিনিকেতনের প্রতীচী বাড়িতে যান। সকালেই তাঁরা সেখানে পৌঁছন এবং বাড়িতে উপস্থিত অমর্ত্য সেনের মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। অমর্ত্য সেন সেই সময় কলকাতার বাইরে ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা না হলেও, প্রতিনিধি দল প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করেন পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে। এই প্রতিনিধি দল মূলত অমর্ত্য সেনের (Amartya Sen) বসবাস ও জমি সংক্রান্ত কিছু নথি যাচাই করার উদ্দেশ্যেই সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই প্রতীচী বাড়ির জমি এবং তার আইনি বৈধতা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। প্রশাসনিক স্তরে সেই বিষয়টিরই শুনানি চলছিল, যার সূত্র ধরেই নোবেলজয়ীকে (Amartya Sen) তলব করা হয়। যদিও অমর্ত্য সেন আগেই জানিয়েছিলেন, তিনি সমস্ত নিয়ম মেনেই ওই জমিতে বসবাস করছেন এবং তাঁর কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে।

   

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং তারপর প্রয়োজনীয় নথির কপি সংগ্রহ করেন। সূত্রের দাবি, পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয় এবং কোনও ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। প্রতিনিধি দল প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেখান থেকে ফিরে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী দু’পক্ষই নিজেদের মতো করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নোবেলজয়ীকে এভাবে তলব করা এবং তাঁর বাড়িতে প্রতিনিধি দল পাঠানো অনভিপ্রেত ও সম্মানহানিকর। তাঁদের দাবি, এর মাধ্যমে বুদ্ধিজীবী সমাজকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের (Amartya Sen) তরফে জানানো হয়েছে, এটি একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মাত্র। কোনও ব্যক্তি নোবেলজয়ী হোন বা সাধারণ নাগরিক—আইনের চোখে সবাই সমান। নিয়ম অনুযায়ী শুনানির প্রয়োজন হলে তলব করা হতেই পারে। প্রশাসনের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য জড়িত নয়।

 

 

Advertisements