কলকাতা: স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) বা শিক্ষক নিয়োগ মামলায় আবারও আইনি জটিলতা। ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা যোগ্য ছিলেন কিন্তু চাকরি পাননি, তাঁদের নতুন নিয়োগে বয়সের ছাড় দেওয়ার যে নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্ট দিয়েছিল, তাতে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে কয়েক লক্ষ চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ
বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট জানায় যে, যোগ্য কিন্তু পরীক্ষায় নির্বাচিত না হওয়া প্রার্থীদের জন্য নতুন করে দরজা খুলে দেওয়ার পক্ষপাতী নয় আদালত। শীর্ষ আদালতের মতে, গত বছর এপ্রিল মাসে যখন ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করা হয়েছিল, তখন শুধুমাত্র সেই সমস্ত যোগ্য প্রার্থীদের বয়সের ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল যাঁরা দুর্নীতিমুক্ত এবং ইতিমধ্যেই কর্মরত ছিলেন। যাঁরা কেবল ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন বা ইন্টারভিউতে ডাক পাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য নয়।
হাইকোর্টের সেই নির্দেশ কী ছিল? SSC recruitment case Supreme Court
গত ১২ ডিসেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিংহ এক নির্দেশিকায় জানিয়েছিলেন, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি পাননি বা প্যানেলে ছিলেন, তাঁরা ২০২৫ সালের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমায় ছাড় পাবেন। এই নির্দেশের ভিত্তিতেই অনেকে নতুন করে ইন্টারভিউ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সোমবার সেই নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করল।
রাজ্য সরকারের যুক্তি ও অনিশ্চয়তা
এদিন শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আদালতকে জানান যে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ কার্যকর করতে হলে প্রায় ২ লক্ষ ৪০ হাজার অতিরিক্ত প্রার্থীকে নতুন করে পরীক্ষায় বা ইন্টারভিউতে সুযোগ দিতে হবে। এর ফলে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়বে এবং নতুন নিয়োগ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তাঁর যুক্তি শোনার পর শীর্ষ আদালত হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্ট এই মামলার সকল পক্ষকে নোটিশ জারি করেছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জবাব তলব করেছে। আপাতত শুধুমাত্র সেইসব ‘আনটেইনটেড’ (দুর্নীতিমুক্ত) প্রার্থীদের বয়সের ছাড় বহাল থাকছে, যাঁরা কর্মরত অবস্থায় চাকরি হারিয়েছিলেন। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে দু’সপ্তাহ পর।
