
নন্দীগ্রাম: রাজ্যের রাজনীতিতে অধিকারী পরিবার ফের আলোচনার কেন্দ্রে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাইপো দেবদ্বীপ অধিকারীকে (Debdeep Adhikari) ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নন্দীগ্রামে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে দেবদ্বীপকে। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় খিচুড়ি বিতরণ কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে খিচুড়ি বিতরণ করেন দেবদ্বীপ অধিকারী। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির একাধিক স্থানীয় নেতা-কর্মী। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—তবে কি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেবদ্বীপ রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পা রাখতে চলেছেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অধিকারী পরিবারের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে। শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় মুখ হিসেবে পরিচিত। তাঁর বাবা শিশির অধিকারী দীর্ঘদিন কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। এই ধারাবাহিকতায় এবার কি নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে দেবদ্বীপকে সামনে আনতে চাইছে বিজেপি—সেই প্রশ্নও উঠছে।
এই প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী অষ্টমী গিরির মন্তব্যও রাজনীতিকে সরগরম করেছে। সম্প্রতি এক জনসভায় তিনি বলেন, “মনে হচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী প্রাইভেট লিমিটেড খুলে ফেলেছেন। ভাইপোকেও রাজনীতিতে নামানোর প্রস্তুতি চলছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পরই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল দাবি করছে, বিজেপি পরিবারতন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না বললেও বাস্তবে একই পথে চলছে। অষ্টমী গিরি বলেন, “নন্দীগ্রামে মানুষ উন্নয়ন চায়, পরিবারতন্ত্র নয়। অধিকারী পরিবারের একের পর এক সদস্যকে সামনে এনে বিজেপি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করতে চাইছে।”
অন্যদিকে বিজেপি শিবির বলছে, দেবদ্বীপ একজন সমাজকর্মী হিসেবেই মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি এখনও কোনও রাজনৈতিক পদে নেই এবং স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। বিজেপি নেতারা মনে করছেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো অপরাধ নয় এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টিকে বড় করে দেখানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নন্দীগ্রামে বিজেপি নতুন মুখ তুলে ধরতে চাইছে। শুভেন্দুর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে তৃণমূলকে চাপে রাখার জন্য দেবদ্বীপকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে।
স্থানীয় মানুষদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, নতুন মুখ রাজনীতিতে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারে। আবার কেউ মনে করছেন, পরিবারতন্ত্র রাজ্যের উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।










