নন্দীগ্রাম: রাজ্যের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। বেতন বৃদ্ধি, সরকারি স্বীকৃতি ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে কলকাতার স্বাস্থ্য ভবন অভিযান কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল আশা কর্মী সংগঠনগুলি। কিন্তু সেই কর্মসূচির আগেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আশা কর্মীদের উপর পুলিশের বাধা ও হেনস্থার অভিযোগ উঠতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(Suvendu Adhikari)।
আশা কর্মীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য ভবনে পৌঁছনোর পথে একাধিক জায়গায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়। কোথাও বাস থামিয়ে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও ট্রেনে উঠতে না দিয়ে টিকিট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। বহু আশা কর্মী জানান, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনে অংশ নিতে গেলেই পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
এই ঘটনায় রাজ্য সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এই সরকার শ্রমজীবী মানুষের কণ্ঠরোধ করতে চাইছে। আশা কর্মীরা নিজেদের ন্যায্য দাবি জানাতে গেলে পুলিশ দিয়ে আটকানো হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের পক্ষে ভয়ঙ্কর বার্তা।”
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, রাজ্য সরকার প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “এই বর্বর সরকার আর ইতর পুলিশ মিলেই বাংলাকে পুলিশি রাজ্যে পরিণত করেছে। গোটা বাংলা দেখছে এই অন্যায়। আর কয়েক মাস পরেই এপ্রিল মাসে এই সরকারের বিদায় হবে।”
শুধু আশা কর্মীদের প্রসঙ্গ নয়, এদিন ফারাক্কায় দুর্ঘটনায় মৃত নন্দীগ্রামের পরিযায়ী শ্রমিক মনোরঞ্জন বেরার পরিবারের সঙ্গেও দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।
মনোরঞ্জন বেরার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
“পরিযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও ভাবনা নেই। কাজের খোঁজে বাইরে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন শ্রমিকরা, অথচ সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।”
