রাতের অন্ধকারে শীতলা মন্দিরে হানা, অলঙ্কার ও প্রণামী বাক্স লুট

সবং: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার অন্তর্গত ভেমুয়ার নীলোট গ্রামে জাগ্রত ও প্রাচীন শীতলা মন্দিরে (Sabang Shitala Temple) দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।…

রাতের অন্ধকারে শীতলা মন্দিরে হানা, অলঙ্কার ও প্রণামী বাক্স লুট

সবং: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার অন্তর্গত ভেমুয়ার নীলোট গ্রামে জাগ্রত ও প্রাচীন শীতলা মন্দিরে (Sabang Shitala Temple) দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। গভীর রাতের অন্ধকারে মন্দিরের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেবীর মূল্যবান অলঙ্কার ও প্রণামী বাক্সের নগদ অর্থ লুট করে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Advertisements

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে নিয়ম মেনে শীতলা মন্দিরে পুজো সম্পন্ন হওয়ার পর মন্দিরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বুধবার সকালে প্রতিদিনের মতো মন্দির খুলতেই চক্ষু চড়কগাছ পুরোহিত ও ভক্তদের। দেখা যায়, মন্দিরের মূল ফটকের তালা ভাঙা এবং ভিতরের গর্ভগৃহ সম্পূর্ণ তছনছ করা হয়েছে।

   

অভিযোগ অনুযায়ী, চোরেরা দেবীর মাথায় থাকা রুপোর চূড়া, একাধিক স্বর্ণালঙ্কার ও অন্যান্য মূল্যবান গয়না খুলে নিয়ে গেছে। পাশাপাশি মন্দিরের ভিতরে রাখা প্রণামী বাক্স ভেঙে তার মধ্যে থাকা সমস্ত নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।

এই ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। অনেকেই আবেগ সামলাতে না পেরে চোখের জল ফেলেন। কারণ এই শীতলা মন্দির শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি ভেমুয়ার নীলোট গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, ভক্তি ও সংস্কৃতির অন্যতম কেন্দ্রস্থল।

গ্রামবাসীদের নিজস্ব উদ্যোগে ও চাঁদা সংগ্রহের মাধ্যমে বহু বছর আগে এই মন্দিরটি নির্মিত হয়েছিল। প্রতিবছর শীতলা পুজো উপলক্ষে এখানে বিশাল মেলা বসে। সেই সময় দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে দেবীর দর্শনের জন্য। এমন পবিত্র স্থানে এই ধরনের চুরির ঘটনায় মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে গভীর আঘাত লেগেছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “এই মন্দির আমাদের জীবনের অঙ্গ। এখানে চুরি হওয়া মানে আমাদের বিশ্বাসে আঘাত করা। যারা এই কাজ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।”

ঘটনার খবর পেয়ে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ পেতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ফরেনসিক দল এসে আলামত সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি মন্দির সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সবং থানার পুলিশ সূত্রে খবর, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। আশপাশের গ্রামগুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খুব দ্রুত চোরদের গ্রেপ্তার করে চুরি যাওয়া অলঙ্কার উদ্ধার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

এদিকে এই ঘটনার পর মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের দাবি, মন্দিরে স্থায়ীভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হোক এবং রাতের জন্য নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা করা হোক।

Advertisements