
হলদিয়া: শিল্পনগরী হলদিয়ায় ফের কর্মসংস্থান নিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। স্থানীয় যুবক-যুবতীদের চাকরির দাবিতে তীব্র বিক্ষোভের (Haldia youth protest) মুখে পড়ল হলদিয়া হিন্দুস্থান ইউনিলিভার কারখানা। সোমবার সকাল থেকে কারখানার মূল গেটের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হন হলদিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলে একের পর এক বড় কারখানা গড়ে উঠলেও স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে।
বিক্ষোভকারীরা জানান, এলাকার বহু যুবক-যুবতী আইটিআই, ডিপ্লোমা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও কাজ পাচ্ছেন না। অথচ বাইরে থেকে শ্রমিক এনে কারখানার বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ করা হচ্ছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও শুধু বহিরাগত হওয়ার কারণে চাকরি দেওয়া হচ্ছে—এটা সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক।
এই আন্দোলনে বিশেষভাবে অংশ নেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। শিল্প স্থাপনের সময় জমি অধিগ্রহণের ফলে বহু পরিবার কৃষিকাজ ও পুরনো জীবিকা হারিয়েছেন বলে অভিযোগ। সেই সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের তরফে স্থানীয়দের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আজও তা বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।
বিক্ষোভ চলাকালীন “আমাদের কাজ চাই”, “স্থানীয়দের নিয়োগ নিশ্চিত করো” সহ একাধিক স্লোগানে সরব হয়ে ওঠে কারখানা চত্বর। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁরা সংঘাত চান না, কিন্তু ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। যদিও কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ যদি লিখিতভাবে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের বিষয়ে আশ্বাস না দেয়, তাহলে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নেবে। প্রয়োজনে শিল্পাঞ্চল জুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, হলদিয়াকে শিল্পশহর বলা হলেও সেই শিল্পের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না।
এদিকে, এই বিষয়ে হিন্দুস্থান ইউনিলিভার কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে আন্দোলনের জেরে কারখানার প্রবেশ ও কাজকর্মে কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের একাংশ মনে করছে, দ্রুত আলোচনা না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
উল্লেখ্য, হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে কর্মসংস্থান নিয়ে এই ধরনের বিক্ষোভ নতুন নয়। অতীতেও একাধিক কারখানার বিরুদ্ধে একই অভিযোগে আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ফের রাস্তায় নামলেন স্থানীয় যুবক-যুবতীরা। এখন দেখার, প্রশাসন ও কারখানা কর্তৃপক্ষ এই দাবিকে কীভাবে গুরুত্ব দেয়।










