সমবায় নির্বাচনের আগে সবজি ক্ষেত নষ্টের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

নন্দীগ্রাম: সমবায় নির্বাচন ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে সবজি ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে…

dubrajpur-tmc-panchayat-member-arrested

নন্দীগ্রাম: সমবায় নির্বাচন ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল নন্দীগ্রাম। বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে সবজি ক্ষেত নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করা হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের আমদাবাদ ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় অবস্থিত রানিচক সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির নির্বাচন আগামী ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই সমবায়ে মোট ৪৫টি আসনে ভোট হবে। জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস সবকটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির পক্ষ থেকেও একাধিক সমর্থিত প্রার্থী নির্বাচনের ময়দানে নেমেছেন।

Advertisements

এই নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন স্থানীয় কৃষক সুকেশ দাস এবং তাঁর স্ত্রী বন্দনা দাস। তাঁরা দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত এবং সবজি চাষ করেই তাঁদের সংসার চলে। অভিযোগ, সমবায় নির্বাচনে বিজেপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এলাকায় তাঁদের উপর চাপ বাড়তে শুরু করে।

   

সুকেশ দাসের অভিযোগ, রাস্তাঘাটে চলাচল থেকে শুরু করে সবজি বিক্রি করতে যাওয়ার সময়ও তাঁদের নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাজারে দোকানে সবজি বিক্রি করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি। পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ হয়ে ওঠে গত কয়েকদিনে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত দু’দিন আগে গভীর রাতে তাঁদের প্রায় পাঁচ বিঘা জমির সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়। ওই জমিতে বেগুন, মূলা, শশা সহ একাধিক মরশুমি সবজি চাষ করা ছিল। সুকেশ দাসের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ক্ষতিকর কীটনাশক ছিটিয়ে গোটা জমির ফসল ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁদের লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ।

সুকেশ দাস জানান, “আমরা গরিব কৃষক। ভোটে দাঁড়ানোই যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমাদের বাঁচার আর উপায় কী? আমাদের জীবিকার একমাত্র ভরসা ছিল এই জমি। সেটাই নষ্ট করে দেওয়া হল।” তাঁর অভিযোগ, এই ঘটনা নিছক চুরি বা নাশকতা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।

এই ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপির পক্ষ থেকে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানানো হয়েছে। বিজেপির দাবি, নন্দীগ্রামে বিরোধীদের দমন করতেই তৃণমূল এই ধরনের কৌশল নিচ্ছে। বিজেপির বক্তব্য, গণতন্ত্রকে ভয় দেখিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা চলছে এবং সমবায় নির্বাচনেও সেই একই ছবি ধরা পড়ছে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই সমস্ত অভিযোগ খারিজ করেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। তাঁদের বক্তব্য, সমবায় নির্বাচনের আগে বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। তৃণমূলের দাবি, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রয়েছে এবং দলের কর্মীরা কোনও ধরনের হিংসা বা ফসল নষ্টের ঘটনায় জড়িত নন।

সমবায় নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রাম জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ভোটের আগে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

Advertisements