
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া এলাকায় অপহরণের (Panskura kidnapping)চেষ্টার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় অপরাধের ছক ভেস্তে গেল এবং অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রেফতার হল আট জন দুষ্কৃতী। উদ্ধার করা হয়েছে অপহরণের শিকার হওয়া সোনার দোকানের কারিগর সৌমেন পাত্রকে।
ঘটনাটি ঘটে গতকাল খড়গপুর–হাওড়া জাতীয় সড়কের সিদ্ধা এলাকায়। জানা গেছে, সৌমেন পাত্র নামে এক সোনার দোকানের কারিগরকে আচমকাই আট জন দুষ্কৃতী জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটি এতটাই দ্রুত ঘটে যে প্রথমে অনেকেই বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেননি। তবে সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে খবর যায় পাঁশকুড়া থানায়।
মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় থানা বেশি কেন! ক্ষোভ AIMIM নেতার
খবর পেয়েই পাঁশকুড়া থানার পুলিশ দ্রুত জেলা পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে-কে বিষয়টি জানায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে জেলা পুলিশ সুপার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় সড়ক ও সংযোগকারী এলাকাগুলিতে নাকা চেকিংয়ের নির্দেশ দেন। পুলিশের এই দ্রুত সিদ্ধান্তই বড়সড় অপরাধ রুখে দেয় বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহল।
পাঁশকুড়া থানার পুলিশের সহযোগিতায় তমলুক থানার পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠে। অপহরণে ব্যবহৃত গাড়িটির গতিবিধি ট্র্যাক করে তমলুকের নিমতৌড়ি এলাকায় গাড়িটিকে আটকানো হয়। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সৌমেন পাত্রকে এবং গ্রেফতার করা হয় অপহরণের সঙ্গে যুক্ত আট জন দুষ্কৃতীকে। পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা সৌমেন পাত্রকে অপহরণ করে পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষ এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সৌমেন পাত্র পূর্বে জম্মুর জৈন বাজার এলাকায় একটি সোনার দোকানে কাজ করতেন। অভিযোগ, সেই দোকান থেকে কিছু পরিমাণ সোনা চুরি করে তিনি নাকি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসেন। ওই সোনার দোকানের সঙ্গে যুক্ত লোকজন বা দুষ্কৃতীরাই সম্ভবত এই অপহরণের ছক কষে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান পুলিশের। যদিও এই চুরির অভিযোগ কতটা সত্য, তা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।
অপহরণ হওয়া সৌমেন পাত্রের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা এলাকায়। ঘটনার পর পরিবারে চরম উদ্বেগ নেমে এলেও পুলিশের দ্রুত অভিযানে স্বস্তি ফেরে। স্থানীয় বাসিন্দারাও পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, সময়মতো নাকা চেকিং না হলে ঘটনা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।
সোমবার ধৃত আট জন দুষ্কৃতীকে তমলুক জেলা আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশ সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে, যাতে ঘটনার পিছনে থাকা পুরো চক্র এবং সম্ভাব্য আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অপহরণ, জোরপূর্বক আটকে রাখা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
এই ঘটনায় আবারও প্রমাণিত হল, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ কতটা সক্রিয়। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে একদিকে যেমন একজন নিরীহ মানুষের প্রাণ রক্ষা পেল, তেমনই অপরাধমূলক চক্রের বড় অংশ ধরা পড়ল। তদন্ত শেষ হলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।




