নন্দীগ্রাম: রানিচক কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচনের (Nandigram Samabay Election) ফল ঘোষণা হতেই রাজনৈতিক উত্তেজনায় ফুটে উঠল নন্দীগ্রাম। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের জয়ের পরে বিজেপির ক্যাম্প লক্ষ্য করে ভাঙচুরের চেষ্টা চালানো হয়। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। নন্দীগ্রাম থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নন্দীগ্রামের আমদাবাদ দু’নম্বর অঞ্চলের অন্তর্গত রানিচক কৃষি সমবায় সমিতির নির্বাচনে মোট ৪৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। ফলাফলে তৃণমূল কংগ্রেস ২৭টি আসনে জয়লাভ করে, বিজেপি পায় ১৮টি আসন। দীর্ঘদিন ধরেই এই সমবায় সমিতিকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছিল। তাই ফল ঘোষণার পর উত্তেজনা ছড়ানো ছিল অনেকটাই প্রত্যাশিত বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।
বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তৃণমূলের বিজয় ঘোষণার পর শাসকদলের কর্মীরা বিজেপির নির্বাচনী ক্যাম্পের দিকে এগিয়ে আসে এবং ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। শাসকদলের দাবি, বিজেপির তরফ থেকেই ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয় এবং তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং নজরদারি বাড়ানো হয়। পুলিশের তৎপরতায় বড়সড় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে গোটা নন্দীগ্রাম এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, ফল ঘোষণার পর থেকে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ করে দেন এবং সাধারণ মানুষ পরিস্থিতির শান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী এই উত্তেজনা সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে।
রানিচক কৃষি সমবায় সমিতি নন্দীগ্রামের কৃষকদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এই সমবায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল। সেই দ্বন্দ্বই নির্বাচন শেষে প্রকাশ্যে চলে আসে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। কোনও পক্ষই যাতে আইন নিজের হাতে না নেয়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এলাকায় পুলিশি নজরদারি বজায় থাকবে।
