জাফরাবাদ চন্দন দাস এবং হরগোবিন্দ দাস হত্যাকাণ্ডে বড় পদক্ষেপ নিল জঙ্গিপুর মহকুমা আদালত (Murshidabad Jafarabad murder case)। গতকাল ১৩ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আজ ১৩ জনের বিরুদ্ধেই আমৃত্যু কারাদন্ড ঘোষণা করল আদালত। আমৃত্যু সাজা ঘোষণা হওয়া দোষীদের মধ্যে রয়েছে হযরত শেখ ওরফে হযরত আলী। যিনি এলাকার জমি মাফিয়া বলে কুখ্যাত।
এরপরে আছে দিলদার নদাব, আসমাউল নদাব, ইনজামুল হক, জিয়াউল হক, ফেকারুল শেখ, আজফারুল শেখ ওরফে বিলাই, মনিরুল শেখ, ইকবাল শেখ, সাবা করিম, একবার আলী, নুরুল ইসলাম এবং ইউসুফ শেখ। পেশায় এরা প্রত্যেকেই ব্যাবসায়ী কিংবা পরিযায়ী শ্রমিক। কেউ আবার রাজমিস্ত্রির কাজ করে।
চন্দন দাস-হরগোবিন্দ দাস হত্যাকাণ্ডে আমৃত্যু কারাদন্ড ১৩ দোষীর
চন্দন দাস এবং হর গোবিন্দ দাস হত্যা মামলায় ডিফেন্স কাউন্সিল চেয়েছিল এই ঘটনাকে রেয়ারেস্ট অফ রেয়ার প্রমান করার কিন্তু আদালত তার বিবৃতিতে বলেছে এই ধরণের মানুষ সমাজে ঘোরাফেরা করলে তা অন্য অপরাধীদের জন্য প্রশ্রয় হতে পারে। তাই আদালত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার সঙ্গে মৃতের পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের কথাও বলেন বিচারপতি।
এই ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ এপ্রিল। কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ (সংশোধনী) আইনের বিরুদ্ধে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সুতি, সামসেরগঞ্জ এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কিছু জায়গায় হিংসাত্মক রূপ নেয়। ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং সংঘর্ষে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে নৃশংস ছিল জাফরাবাদের হরগোবিন্দ দাস (৭০) এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাসের (৪০) হত্যা।
অভিযোগ, একদল দুষ্কৃতী তাঁদের বাড়িতে হামলা চালায়, দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে। পরিবারের সদস্যদের সামনেই এই ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে। এই জোড়া খুন রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেয়। বিজেপি শাসক তৃণমূলকে দায়ী করে, অন্যদিকে তৃণমূল এটাকে ব্যক্তিগত শত্রুতা বলে দাবি করে।
হতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তুষ্ট, কিন্তু কেউ কেউ বলেন, “আরও কঠোর সাজা হলে ভালো হতো। আমাদের জীবন তো শেষ হয়ে গেছে।” এই ঘটনা মুর্শিদাবাদের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার এক কালো অধ্যায়। হিংসায় আরও একজনের মৃত্যু হয় পুলিশের গুলিতে। রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরকে দোষারোপ করলেও আদালতের রায় ন্যায়ের পথ দেখিয়েছে। বিজেপি এটাকে ‘হিন্দু নির্যাতনের’ উদাহরণ বলে প্রচার করেছে, তৃণমূল বলছে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলেছে।
