
হাওড়া: সপ্তাহের শুরুতেই ফের যাত্রীদের জন্য দুঃসংবাদ। হাওড়া ডিভিশনের ( Howrah Division) ব্যান্ডেল–কাটোয়া শাখায় রেলপথে রক্ষণাবেক্ষণের কাজের কারণে আগামী সপ্তাহ থেকে একাধিক ট্রেন বাতিল ও সময়সূচিতে পরিবর্তন আনছে পূর্ব রেল। এর ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পূর্ব রেলের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ধাত্রীগ্রাম ও সমুদ্রগড় স্টেশনের মধ্যবর্তী আপ লাইনে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে। সেই কারণে ৪ নভেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিন ট্রাফিক ও পাওয়ার ব্লক নেওয়া হবে। নির্দিষ্টভাবে ৪, ৭, ১১, ১৪, ১৮, ২১ ও ২৫ নভেম্বর এই ব্লক চলবে।

রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ব্লক চলাকালীন ব্যান্ডেল থেকে ৩৭৭৪১ এবং কাটোয়া থেকে ৩৭৭৪২ নম্বর ট্রেনগুলি বাতিল থাকবে। একই সঙ্গে ৩৭৭৪৩ ব্যান্ডেল–কাটোয়া লোকাল ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের পরিবর্তে ৫টা ২০ মিনিটে ছাড়বে।
রেলের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই সময় বিশেষ ট্রেন বা দেরিতে চলা ট্রেনগুলির রুট পরিবর্তন করা হতে পারে। যাত্রীদের আগেভাগে সময়সূচি দেখে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজ শেষ হলে সমস্ত ট্রেন পুনরায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই একই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ প্রথমে করার কথা ছিল অক্টোবরের ১৬ তারিখ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। কিন্তু রাস পূর্ণিমা উপলক্ষে সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছিল রেল। কারণ ওই সময়ে বিপুল পরিমাণ যাত্রী চলাচল করে থাকে। তাই ভিড় এড়াতে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে নভেম্বরের শুরু থেকে।
রেল সূত্রে খবর, আপ লাইন সংস্কারের পাশাপাশি সিগন্যালিং ব্যবস্থা ও ট্র্যাক মেরামতির কাজও চলবে। এর ফলে ভবিষ্যতে আরও নিরাপদ ও দ্রুতগামী ট্রেন পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে।
https://twitter.com/EasternRailway/status/1984321109257601285
যাত্রী মহলে অবশ্য উদ্বেগ বাড়ছে। নিয়মিত অফিসগামী যাত্রীরা বলছেন, “সোমবার বা সপ্তাহের প্রথম দিনে যদি ট্রেন বাতিল হয়, তাহলে গন্তব্যে পৌঁছতে দেরি হবেই। বিকল্প পথে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে যাবে।”
রেলের এক আধিকারিকের বক্তব্য, “যাত্রীদের অসুবিধা কমিয়ে আনার সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগেভাগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে যাতে যাত্রীরা নিজেদের পরিকল্পনা করতে পারেন।”
রেল প্রশাসনের দাবি, নভেম্বরের শেষের দিকেই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হয়ে গেলে ব্যান্ডেল–কাটোয়া শাখায় চলাচল আরও নির্বিঘ্ন হবে। সেই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান উন্নত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।










