পাঁশকুড়া: শীত পড়তেই রঙিন হয়ে উঠছে পূর্ব মেদিনীপুরের ক্ষীরাই (Khirai Flower Valley)। পাঁশকুড়া ব্লকের ক্ষীরাই ও দোকান্ডা গ্রাম ঘিরে গড়ে ওঠা ফুলের উপত্যকা বর্তমানে বাংলার শীতকালীন পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে উঠে এসেছে। একসময় শুধু ফুলচাষের জন্য পরিচিত এই এলাকা এখন পর্যটকদের ভিড়ে জমজমাট।
ক্ষীরাই নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ জমিতে সারি সারি ফুলের চাষ নজর কাড়ে সকলের। গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা, অ্যাস্টার, মুরগাই, গ্লাডিওলাস নানা রঙ ও প্রজাতির ফুলে ঢেকে যায় মাঠ। সকাল কিংবা বিকেলের নরম আলোয় এই ফুলের বাগান যেন আরও মোহময় হয়ে ওঠে। সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতেই প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের।
ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ক্ষীরাইয়ে পর্যটনের মরশুম ধরা হয়। এই সময়ে স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ সব বয়সের মানুষই আসছেন ক্ষীরাই দেখতে। কেউ পরিবার নিয়ে দিনভর বেড়াতে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে চড়ুইভাতিতে, আবার কেউ নিছক প্রকৃতির টানে ছুটে আসছেন এই ফুলের উপত্যকায়।
গত কয়েক বছরে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ক্ষীরাইয়ের জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়েছে। জানুয়ারি মাস এলেই ক্ষীরাই মানেই ফুলের বাগানে ফটোশুট এমন এক ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ছে ক্ষীরাইয়ের রঙিন দৃশ্য। এর জেরে পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়িয়ে কলকাতা ও রাজ্যের অন্যান্য জেলার পাশাপাশি ভিন্রাজ্য থেকেও পর্যটকেরা আসছেন এখানে।
পর্যটকদের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় গ্রামগুলিতেও পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। ফুলের মরশুমে প্রায় দেড় মাস ধরে একপ্রকার মেলার পরিবেশ তৈরি হয় ক্ষীরাই এলাকায়। অস্থায়ী দোকান, খাবারের স্টল, পার্কিং ও গাইড পরিষেবা গড়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন পর্যটকদের সুবিধা হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের আয়ের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে অতিরিক্ত ভিড় ও অসচেতনতার কারণে ফুলের বাগান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন ফুলচাষিরা। অনেকের মত, ক্ষীরাইয়ের সৌন্দর্য রক্ষা করতে হলে পরিকল্পিত পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সচেতনতা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি পর্যটনকে নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে ক্ষীরাই আরও বড় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
