ঝাড়গ্রাম: বছরের শেষ লগ্নে এসে শীতের তীব্রতায় কাঁপছে পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল (Jangalmahal cold wave) অঞ্চল। ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই ধীরে ধীরে পারদ নামতে শুরু করেছিল ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার বিভিন্ন অংশে। তবে বছরের শেষ দিনে সেই শীত যেন আরও এক ধাপ চরমে পৌঁছেছে। শনিবার ঝাড়গ্রাম জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে দাঁড়িয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি শীত মরশুমে অন্যতম সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
একই দিনে উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় শৈলশহর দার্জিলিংয়ে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ পাহাড়ি অঞ্চল ও জঙ্গলমহলের তাপমাত্রার ব্যবধান মাত্র এক ডিগ্রি। এই ঘটনাই নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—চলতি শীতে কি কনকনে ঠান্ডায় দার্জিলিংকেও টেক্কা দিতে চলেছে জঙ্গলমহল?
ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে ভোর ও গভীর রাতে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সকালের দিকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে জাতীয় সড়ক, গ্রামীণ রাস্তা ও বনাঞ্চল। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা। বিশেষ করে বাইক ও সাইকেল আরোহীদের ভোগান্তি বাড়ছে। শীতল উত্তুরে হাওয়ার দাপটে সকালবেলা ঘর ছাড়তে অনীহা প্রকাশ করছেন বহু মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় এ বছর শীত অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে রাতের দিকে তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে যাচ্ছে বলে দাবি অনেকের। গরম জামাকাপড় ও কম্বল ছাড়া রাত কাটানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শীতের প্রভাবে বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের মধ্যে সর্দি-কাশি, জ্বর, শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যাও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায়, উত্তর-পশ্চিম ভারতের পার্বত্য অঞ্চল থেকে আসা শুষ্ক ও ঠান্ডা হাওয়াই এই তীব্র শীতের মূল কারণ। পাশাপাশি আকাশ পরিষ্কার থাকায় রাতে তাপ বিকিরণের মাত্রা বেড়েছে, যার ফলে দ্রুত তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে। তাঁদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন জঙ্গলমহল ও দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে।
দার্জিলিংয়ের সঙ্গে ঝাড়গ্রামের তাপমাত্রার এই তুলনা জঙ্গলমহলের আবহাওয়াকে নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে। সাধারণত দার্জিলিং মানেই তীব্র শীতের প্রতীক হলেও চলতি মরশুমে জঙ্গলমহল সেই ধারণায় বড়সড় চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে। বছরের শেষ দিনে রেকর্ড ঠান্ডা জঙ্গলমহলের শীতপ্রবণ চরিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলেই মত আবহাওয়াবিদদের।
