গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশি মৎস্যজীবীকে উদ্ধার ভারতীয় উপকূলরক্ষীদের

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন এক বাংলাদেশি মৎস্যজীবী যুবক। উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে দীর্ঘক্ষণ ধরে ভেসে থাকা ওই যুবককে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার করল…

বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন এক বাংলাদেশি মৎস্যজীবী যুবক। উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে দীর্ঘক্ষণ ধরে ভেসে থাকা ওই যুবককে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে উদ্ধার করল ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী (Indian Coast Guard)। এই উদ্ধার অভিযানের মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে এবং তা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে প্রশংসার ঝড়।

Advertisements

সূত্রের খবর, ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ ‘কমলাদেবী’ আন্তর্জাতিক জলসীমার সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছিল। সেই সময় দূর থেকে সমুদ্রের বুকে অস্বাভাবিকভাবে ভেসে থাকা একটি অবয়ব নজরে আসে জওয়ানদের। কাছাকাছি যেতেই দেখা যায়, প্রায় ২২ বছর বয়সী এক বাংলাদেশি মৎস্যজীবী লাইফ জ্যাকেট পরে কোনওমতে ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন।

   

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৎক্ষণাৎ উদ্ধার অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উত্তাল সমুদ্র ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও জাহাজ ঘুরিয়ে ওই যুবকের কাছে পৌঁছান উপকূলরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। বয়া নিক্ষেপ করে তাঁকে নিরাপদে জাহাজে তুলে আনা হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হয় এই রোমহর্ষক উদ্ধার অভিযান।

উদ্ধারের পর ওই মৎস্যজীবীকে জাহাজেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। দীর্ঘ সময় জলে থাকার ফলে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তবে চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা এবং মাছ ধরার সময় কোনওভাবে নৌকা থেকে পড়ে যান। যদিও কীভাবে তিনি এতটা দূরে সমুদ্রে ভেসে এলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

এই ঘটনার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, উদ্ধার হওয়ার পর ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ওই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক বা গ্রেপ্তার না করে মানবিকতার পরিচয় দেয়। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম মেনে তাঁকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপকে অনেকেই ভারতের মানবিক ও দায়িত্বশীল মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী উদ্ধার অভিযানের ছবি ও ভিডিও তাদের সরকারি সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করেছে। সেই পোস্ট ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের একাংশ বাহিনীর সাহসিকতা ও মানবিকতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। 

Advertisements