
ঝাড়গ্রাম: সুবর্ণরেখা নদীকে (Subarnarekha River) ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল বেআইনি বালি উত্তোলনের অভিযোগ। দিনের আলোয় নদীঘাটে তেমন নড়াচড়া চোখে পড়ত না, কিন্তু রাত নামলেই সক্রিয় হয়ে উঠত বালি পাচার চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে নদীর বুক চিরে ট্রাক্টর ও অন্যান্য যানবাহনের মাধ্যমে অবাধে বালি লুঠ চলছিল। অবশেষে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই বড়সড় পদক্ষেপ নিল বেলিয়াবেড়া থানার পুলিশ।
রবিবার ভোররাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর–২ ব্লকের অন্তর্গত আশকোলা এলাকায় অভিযান চালায় বেলিয়াবেড়া থানার পুলিশ। খবর ছিল, সুবর্ণরেখা নদী থেকে অবৈধভাবে বালি তুলে ট্রাক্টরের মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। নির্দিষ্ট স্থানে ওত পেতে থাকা পুলিশ বালি বোঝাই একটি ট্রাক্টর আটক করে। পরে সেটিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চোরচিতা ও আশপাশের এলাকায় রাতের অন্ধকারে নিয়মিত বালি তোলা হতো। সেই বালি বিভিন্ন নির্মাণ কাজের জন্য বেআইনিভাবে বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংগঠিত চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই বেআইনি কারবার চালাচ্ছিল। নদীর পাড় ভাঙন, কৃষিজমির ক্ষতি এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছিল এই বালি উত্তোলনের ফলে।
বেলিয়াবেড়া থানার পুলিশের দাবি, সম্প্রতি অবৈধ বালি পাচার রুখতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। সেই নজরদারির ফলেই এই অভিযান সফল হয়েছে। আটক করা ট্রাক্টরটির বিরুদ্ধে পরিবেশ আইন ও খনিজ সম্পদ সংরক্ষণ আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনার সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছে, কোথা থেকে নির্দেশ আসছিল এবং বালি কোথায় পাচার হচ্ছিল—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে ইঙ্গিত, প্রয়োজনে আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, মাঝরাতে ট্রাক্টরের শব্দে নদীপাড় কেঁপে উঠত। একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ এতদিন দেখা যায়নি। পুলিশের এই অভিযানে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং আশা করছেন, ভবিষ্যতে এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ বন্ধ হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ বালি উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হয়, ভূগর্ভস্থ জলস্তর নেমে যায় এবং বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সুবর্ণরেখা নদী ঝাড়গ্রাম জেলার পরিবেশ ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত হওয়ায় এই ধরনের বেআইনি কাজ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।
পুলিশ জানিয়েছে, আগামী দিনে সুবর্ণরেখা নদীর বিভিন্ন ঘাটে নিয়মিত টহল, রাতের নজরদারি এবং আকস্মিক অভিযান আরও বাড়ানো হবে। অবৈধ বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই ছাড়া হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছে প্রশাসন।










