Home West Bengal South Bengal পৌষমেলার ভিড় সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন পূর্ব রেলের

পৌষমেলার ভিড় সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন পূর্ব রেলের

শান্তিনিকেতনে শুরু হয়েছে বহুচর্চিত ও ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা (Poush Mela)। ৭ পৌষ থেকেই বীরভূম জেলার এই শান্ত শহর কার্যত উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাবনায় গড়ে ওঠা এই মেলা শুধুমাত্র একটি উৎসব নয়, বরং বাঙালির সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্যের এক অনন্য মিলনক্ষেত্র। প্রতি বছর এই সময় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ শান্তিনিকেতনের উদ্দেশে রওনা দেন।

Advertisements

এই বিপুল যাত্রীচাপের কথা মাথায় রেখেই এবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। যাত্রীদের সুবিধার্থে হাওড়া থেকে শান্তিনিকেতন (বোলপুর) পর্যন্ত একটি বিশেষ ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়েছে। পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশনের উদ্যোগে চালু হওয়া এই ট্রেনটি ২৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ পৌষমেলার শেষ দিন পর্যন্ত এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবা পাওয়া যাবে।

   

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পৌষমেলা শুরু হওয়ার প্রথম দিকে বিশেষ ট্রেন না থাকায় যাত্রীদের ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছিল। বহু মানুষকে বাস কিংবা দূরপাল্লার ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যে যাতায়াত করতে হয়েছে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই দু’দিন পর বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই পৌষমেলা স্পেশাল ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে হাওড়া স্টেশন থেকে ছাড়ছে। ট্রেনটি ব্যান্ডেল, বর্ধমান এবং গুসকরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেওয়ার পর সকাল ৯টা ৫৫ মিনিট নাগাদ বোলপুরে পৌঁছচ্ছে। ফলে কম সময়ের মধ্যেই যাত্রীরা মেলার মূল কেন্দ্রে পৌঁছতে পারছেন।

ফেরার দিকটিও রাখা হয়েছে সমানভাবে সুবিধাজনক। এই ট্রেনটি বোলপুর স্টেশন থেকে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে বেলা ২টো ৪৫ মিনিটে হাওড়া পৌঁছচ্ছে। এর ফলে একদিনে পৌষমেলা দেখে ফেরার পরিকল্পনাও সহজ হয়েছে অনেকের জন্য।

এই বিশেষ ট্রেনে মোট ১১টি কোচ রয়েছে। তার মধ্যে ৯টি জেনারেল কামরা ও ২টি সংরক্ষিত কামরা থাকায় সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি রিজার্ভেশন করা যাত্রীদেরও সুবিধা মিলছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, পরিবার নিয়ে ভ্রমণকারী ও স্বল্প বাজেটের পর্যটকদের কাছে এই ট্রেন পরিষেবা যথেষ্ট স্বস্তির বলে মনে করা হচ্ছে।

পৌষমেলাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতনে বাউল সংগীত, লোকনৃত্য, হস্তশিল্পের স্টল, খাদ্য মেলা এবং নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিদিন যাত্রীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই বিশেষ ট্রেন চালু হওয়ায় যাত্রীভিড় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে আশা করছে রেল কর্তৃপক্ষ।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটন ও সংস্কৃতি মহলের বহু মানুষ। তাঁদের দাবি, আগামী দিনে বড় উৎসব ও মেলাকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই এ ধরনের বিশেষ ট্রেন চালু করলে যাত্রীভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

Advertisements