নাবালিকার আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার যুবক

মিলন পণ্ডা, ভূপতিনগর: প্রেমের সম্পর্কে ভাঙন থেকেই জন্ম নিল চাঞ্চল্যকর অপরাধ! সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার পর ক্ষোভে অন্ধ হয়ে নাবালিকার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেওয়া, ব্ল্যাকমেল, ধর্ষণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে হেনস্তা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগরের এক যুবককে (lover arrested)। অভিযুক্তের নাম পান্থদীপ বেরা (১৯), বাড়ি লাউদিঘি এলাকায়। ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকাজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, সোমবার গভীর রাতে নাবালিকার বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভূপতিনগর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে পান্থদীপকে তার বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার তাকে কাঁথি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিনের আবেদন খারিজ করে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। তার বিরুদ্ধে পকসো আইন, ধর্ষণ এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে।

   

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক বছর ধরে পান্থদীপ বেরা ও ওই নাবালিকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অজান্তে বিভিন্ন স্থানে নাবালিকাকে নিয়ে যেত অভিযুক্ত। অভিযোগ, সেই সুযোগেই শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং গোপনে তোলা হয় একাধিক আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও। নাবালিকা তখন বুঝতে পারেনি, তবে সম্পর্কের অবনতি ঘটতেই পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করে।

সম্পর্ক ভাঙার পর নাবালিকা ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে পান্থদীপ। অভিযোগ, প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে সে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নাবালিকার আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ফোন ও মেসেজে বিভিন্নভাবে হুমকি দিত বলেও অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনা জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র উত্তেজনা।

নাবালিকার পরিবার সঙ্গে সঙ্গে ভূপতিনগর থানায় অভিযোগ জানায়। পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া মাত্রই গ্রেফতার করে অভিযুক্তকে। পাশাপাশি নাবালিকার সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষাও করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

ভূপতিনগর থানার ওসি জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বিকৃত আচরণ শুধুমাত্র একটি নাবালিকার ব্যক্তিগত জীবন নয়, তার মানসিক অবস্থাকেও গুরুতরভাবে আঘাত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন। তাঁদের মতে, ডিজিটাল মাধ্যমে নাবালিকাদের হেনস্তা, ব্ল্যাকমেল এবং প্রতারণার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। কঠোর আইন প্রয়োগ না হলে এই ধরনের অপরাধ রোখা সম্ভব হবে না।

এদিকে পুলিশ ডিজিটাল ফরেনসিক টিমের সাহায্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কন্টেন্ট, ফোনের ডেটা এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছে। তদন্তে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসবে বলে মনে করছে তদন্তকারী দল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন