কাঁথি: বছরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে পর্যটকদের ভিড়ে একেবারে উপচে পড়ছে পূর্ব মেদিনীপুরের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র দিঘা (Digha beach festival) ও মন্দারমণি। বড়দিনের পর থেকেই ভিড় ধীরে ধীরে বাড়ছিল, আর ৩১ ডিসেম্বরের ঠিক আগমুহূর্তে সেই ভিড় পৌঁছেছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ওল্ড ও নিউ দিঘা মিলিয়ে অধিকাংশ হোটেলই এখন পুরোপুরি ‘হাউসফুল’। আগাম বুকিংয়ের জেরে শেষ মুহূর্তে এসে ঘর পাওয়া কার্যত দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।
হোটেল মালিকদের দাবি, চলতি বছর পর্যটকের সংখ্যায় অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভাঙতে চলেছে দিঘা। দিঘা–শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সব হোটেলেই বুকিং সম্পূর্ণ। যে কয়েকটি ঘর খালি রয়েছে, সেগুলি পেতে পর্যটকদের মধ্যে রীতিমতো প্রতিযোগিতা চলছে। যদিও বর্তমানে ওল্ড ও নিউ দিঘা মিলিয়ে প্রায় ৮০০টির বেশি হোটেল পরিষেবা দিচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তৈরি হওয়া আধুনিক মানের নতুন হোটেলগুলি পর্যটকদের পরিষেবার মান অনেকটাই বাড়িয়েছে।
পর্যটকদের এই বিপুল ভিড়কে কেন্দ্র করে বিশেষ আয়োজন করেছে দিঘা–শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন। আগামী ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর ওল্ড দিঘার সমুদ্র সৈকতে বসছে বিশেষ বীচ ফেস্টিভ্যাল। এই উৎসবে পর্যটকদের আনন্দ দিতে উপস্থিত থাকবেন একাধিক শিল্পী। গান, নাচ এবং লাইভ পারফরম্যান্সে জমে উঠবে সৈকতের পরিবেশ। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ৩১ ডিসেম্বর রাত ঠিক ১২টায় থাকছে বিশেষ আতসবাজির প্রদর্শনী, যা পর্যটকদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
এছাড়াও দিঘা ও মন্দারমণির বহু হোটেলে থাকছে ডিজে নাইট, থিম পার্টি এবং বিশেষ সঙ্গীত সন্ধ্যা। কিছু হোটেলে বলিউড ও টলিউডের জনপ্রিয় শিল্পীদের নিয়ে আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পরিবার, বন্ধু কিংবা তরুণ পর্যটক—সব ধরনের দর্শনার্থীদের কথা মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে বর্ষবরণের রাত।
বর্ষশেষের রাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিঘা ও মন্দারমণি জুড়ে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের তরফে চালু রাখা হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ অভিযোগ নম্বর, যাতে পর্যটকরা যে কোনও সমস্যায় দ্রুত সাহায্য পান।
শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা ও ভিনরাজ্য থেকেও মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন দিঘা-মন্দারমণিতে। দিঘার রাস্তায় ইতিমধ্যেই দেখা যাচ্ছে বাস ও প্রাইভেট গাড়ির দীর্ঘ লাইন। ট্রেনেও উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হোটেল মালিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সদ্য নির্মিত জগন্নাথ মন্দির পর্যটক টানার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিয়েছে। নতুন বছরের প্রথম দিনে জগন্নাথ দেবের দর্শন দিয়ে বছর শুরু করতে চাইছেন বহু মানুষ, যার ফলে আগামী কয়েক দিনে ভিড় আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


