১০০ দিনের কাজ ও ওবিসি সংরক্ষণের দাবিতে CPIM-এর বাংলা বাঁচাও যাত্রা

পূর্ব মেদিনীপুর: কর্মসংস্থান সংকট, সামাজিক বৈষম্য ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া এলাকায় সিপিআইএমের (CPIM movement) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। সিপিআইএম পাঁশকুড়া ২ এরিয়া কমিটির ডাকে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে গোটা এলাকায় রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

গোবিন্দ নগর অঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বুথ—জয়কৃষ্ণপুর, পশ্চিম নেকড়া, রানীয়াড়া, কয়া ও মঙ্গলদ্বারী বুথের উপর দিয়ে এই যাত্রা অগ্রসর হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সিপিআইএম কর্মী-সমর্থকরা রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে বাংলার মানুষের জীবন-জীবিকার সংকট এবং দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বঞ্চনার ছবি।

   

এই বাংলা বাঁচাও যাত্রার মূল দাবি ছিল অবিলম্বে ১০০ দিনের কাজ প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে চালু করা, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি মেটানো এবং ওবিসি সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান। সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, গ্রামীণ অর্থনীতি কার্যত ভেঙে পড়েছে, অথচ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কোনও সদিচ্ছা সরকারের নেই।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব পাঁশকুড়া বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক ইব্রাহিম আলি। তিনি বলেন, বর্তমানে রাজ্যে কাজের সুযোগ কমছে, যুবসমাজ বেকারত্বের জাঁতাকলে পড়ছে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, বাংলা বাঁচাও যাত্রা শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াই।

তিনি আরও বলেন, ওবিসি সংরক্ষণ নিয়ে আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে বহু ছাত্রছাত্রী ও চাকরিপ্রার্থী চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। দ্রুত এই সমস্যা সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এছাড়াও যাত্রায় অংশ নেন সিপিআইএমের একাধিক স্থানীয় নেতা ও নেতৃত্ব—নিতাই সান্নিগ্রাহী, নাজির হোসেন, মনোজ মন্ডল, অরুণ দোলই, আশিকুর রহমান, নিলুফা খাতুন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও মানুষের অধিকার আজ একাধিক দিক থেকে চ্যালেঞ্জের মুখে। এই পরিস্থিতিতে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলাই একমাত্র পথ।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই বলেন, কাজ ও সম্মানের দাবিতে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও, রাজনৈতিক মহলে এই কর্মসূচিকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন