মিলন পণ্ডা, কাঁথি ( পূর্ব মেদিনীপুর ): পাকিস্তানে প্রায় দু’বছর জেলবন্দি অবস্থায় অস্বাভাবিক মৃত্যু হল কাঁথির জুনপুটের এক মৎস্যজীবীর। পাকিস্তানের জেলে ভারতের মৎস্যজীবী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা মধ্যে রয়েছে পরিবার থেকে প্রশাসনে আধিকারিকেরা! কিভাবে জেলবন্দি মৎস্যজীবীর মৃত্যু হল তা এখনোও পরিস্কার নয়।
আগামী ৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান থেকে ওই মৎস্যজীবীর মৃতদেহ ভারত সরকারের হাতে তুলে দেবে বলে জানাগিয়েছে। মৃত মৎস্যজীবী স্বপন রানা (৫৫)। তার বাড়ী পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় জুনপুট উপকূল থানার দক্ষিন ডাউকি গ্রামে। মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছাতেই শোকস্তব্ধ গোটা পরিবার থেকে আত্মীয় পরিজনেরা। পাকিস্তানের জেলে থাকার সময়ে বেশ কয়েকবার মোবাইলে হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ছেলে সঙ্গে কথা হয় স্বপনবাবু। মৃতদেহ আনতে তোড়জোর শুরু করেছে প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
Black Friday Sale-এ Galaxy A36 5G-তে দারুণ ছাড়, কেনার এখনই সুযোগ
পুলিশ ও স্থানীয় সূএে জানাগেছে, জুনপুট উপকূল থানার দক্ষিন ডাউকি গ্রামের বাসিন্দা স্বপন রানা আগেই পেশায় মৎস্যজীবী ছিল। বেশ কয়েক বছর মৎস্যজীবী পেশা ছেড়ে দিয়ে স্থানীয় একটি বাজারে সোনার দোকান শুরু করে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসা মন্দ চলার কারণে সেই সোনার দোকানটি বন্ধ করে দেন। পুনরায় মৎস্যজীবী পেশাই যোগ দেন স্বপনবাবু। নিখোঁজ হওয়া দু’বছর ধরে ট্রলারে মৎস্যজীবি কাজ করতো।
গত দু বছর আগে কেরালা রাজ্যের মৎস্যজীবী ট্রলারে যান। এরপর গুজরাট থেকে ট্রলারে মৎস্য শিকার সাত জন মৎস্যজীবী। প্রতিবেশী রাজ্য উড়িষ্যা, নামখানা সহ মোট ৭ জন মৎস্যজীবী একটি ট্রলারে করে মৎস্য শিকারে বের হন। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানের পুলিশের হাতে আটক হন সাতজন মৎস্যজীবি। তারপরেই বেশ কিছুদিন কোন সন্ধান পায়নি পরিবারে লোকেরা।
মৃত মৎস্যজীবী স্বপন রানা’র স্ত্রী টুটুরানী রানা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। কয়েক মাস কেটে যাওয়ার পর জানতে পারে পাকিস্তানের জেলে রয়েছেন। ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকম চেষ্টা করেন পরিবার থেকে আত্মীয় পরিজনেরা। কিন্তু কোন মতো সম্ভব হয়নি। তারমাঝে বেশ কয়েকবার মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে স্বপনবাবুর সঙ্গে কথা হয় তার ছেলের। গত ছ’মাস আগে শেষবারের জন্য কথা হয়েছিল ছেলের।
মৃত স্বপন রানার ছেলে চন্দ্রকান্ত রানা বলেন ” বসিরহাট থেকে একজন মেসেজ করে বিষয়টি জানিয়ে ছিল। সেইভাবে বুঝে উঠতে পারিনি। শনিবার সকালে প্রশাসনিক দপ্তরের আধিকাররা এসে বাবা মৃত্যুর খবরটি জানান। দু’বছর আগে গুজরাটে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করার অপরাধে পাকিস্তানের গ্রেফতার হয়। জেলে থাকার সময় দু তিনবার ফোনে বাবার সঙ্গে কথা হয়েছে।
গত পাঁচ মাস আগে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে পাকিস্তানের ওই ছেলেটাকে ফোন করি। ও জানান আমি কিছু জানি না। বাবা বলতো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমাদের ছেড়ে দেবে, তোমরা একটু চেষ্টা করো প্রধানমন্ত্রীকে জানানো য়ায়। গুজরাট থেকে মাছ ধরতে গিয়ে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক জনসীমানা গ্রেফতার হয় “।
স্বপন রানা’কে পাকিস্থানে কোন জেলে , কোথায় রাখা হয়েছিল তা জানে না পরিবার! দু তিন মিনিটের বেশি ফোনে কথা বলা দেওয়া হতো না! সেখান থেকে স্বপনবাবুর ছবি ছেলে মোবাইলে পাঠিয়ে দেয় তারা। এখনোও পাকিস্তানের জেলে আটক রয়েছেন ভারতে আরও ৬ জন মৎস্যজীবি। পাকিস্তানি জেলে মৃত স্বপন রানা স্ত্রী টুটুরানি রানা বলেন ” গুজরাটে মাছ ধরতে গিয়েছিল। সেখানে মৃত্যু হয়েছে বলে খবর এসেছে। মৃতদেহ আনার জন্য সব রকমের সহযোগিতা করছেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা “।
পাকিস্তানি জেলে স্বপনবাবুর মৃত্যুর খবর পেয়ে কার্যত শোকস্তব্ধ আত্মীয় থেকে প্রতিবেশীরা। প্রতিবেশী দিপালী রানা বলেন ” দু’বছর আগে গুজরাটে মাছ ধরতে গিয়ে পাকিস্তানে গ্রেফতার হয়। সেখানেই জেল হয়েছিল “৷ অন্য এক আত্মীয় পূর্ণিমা রানা বলেন ” সোনার দোকান ছিল, সেই ভাবে চলতো না। তারপরে ট্রলারে মৎস্যজীবী হিসেবে কাজে যোগ দেন। মৎস্যজীবী হিসেবে কাজ ওরা আগেই অভিজ্ঞতা ছিল। দু’বছর ধরে ট্রলারে মৎস্যজীবী কাজ করেছিল। ট্রলারে সাতজন পাকিস্তানের ধরা পড়েছিল “।
মৃতদেহ আনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কাঁথি ১ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা তথা মৎস্যজীবী নেতা আমিন সোহেল বলেন ” বিডিও ও পূর্ব মেদিনীপুর এডিএম ( মেরিন) সরকারী একটি নোটিশ পাঠান। মৎস্যজীবী স্বপন রানা পাকিস্তানের জেলে মৃত্যু হয়েছে। প্রায় দু’ছর ধরে গুজরাটে ট্রলারে মাছ ধরার কাজ করতো।
স্বপন রানা সহ ৭ জন পাকিস্তানের গ্রেফতার হয়। গত পয়লা জুলাই ২০২৫ পাকিস্তান সরকার ভারত সরকারের একটি লিস্ট দেন ৭ জন আমাদের কাছে রয়েছে। সেখানে স্বপনবাবু রয়েছে। মৃতদেহ দেওয়া আনার জন্য সব রকমের খরচ সরকারি পক্ষ থেকে করা হবে “। মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে কার্যত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মৃত মৎস্যজীবী স্ত্রী ও ছেলে! কবে বাড়ী পৌঁছাবে দেহ! তার দিন গুনছে আত্মীয় থেকে প্রতিবেশীরা।
