রবি মরশুমে কৃষকদের ফসল বীমা সচেতনতায় ট্যাবলো প্রচার

পূর্ব মেদিনীপুর: শীতকাল শুরু হতেই রাজ্যে রবি মরশুমের চাষাবাদ শুরু হতে চলেছে। এই মরশুমে ধান, ডাল, তেলবীজ-সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে থাকেন জেলার হাজার হাজার কৃষক। কিন্তু আবহাওয়ার ক্রমবর্ধমান খামখেয়ালিপনার কারণে কৃষকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। কখনও অকাল বৃষ্টি, কখনও অতিবৃষ্টি, আবার কখনও দীর্ঘস্থায়ী খরার জেরে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। এই পরিস্থিতিতে কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরেই চালু রয়েছে ফসল বীমা যোজনা(crop insurance)।

পশ্চিমবঙ্গে এই ফসল বীমা যোজনার একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল এখানে কৃষকদের ফসল বীমা করাতে একটিও টাকা খরচ করতে হয় না। নির্দিষ্ট নথিপত্র সহ কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে আবেদন করলেই ফসল ক্ষতির ক্ষেত্রে কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেয়ে থাকেন। তবে অনেক কৃষক এখনও এই সুবিধা সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত নন। সেই কারণেই রবি মরশুম শুরুর মুখে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে অভিনব উদ্যোগ নিল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও কৃষি দপ্তর।

   

কৃষকদের ফসল বীমা সংক্রান্ত তথ্য আরও সহজে পৌঁছে দিতে ট্যাবলো প্রচার কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হলো। এই ট্যাবলো জেলার প্রতিটি ব্লক এলাকায় ঘুরে ঘুরে কৃষকদের ফসল বীমার গুরুত্ব, আবেদন পদ্ধতি ও সুবিধা সম্পর্কে অবহিত করবে। রঙিন ব্যানার, পোস্টার এবং মাইকের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এদিন ফিতে কেটে ও সবুজ পতাকা নেড়ে ট্যাবলোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) নেহা ব্যানার্জী। উপস্থিত ছিলেন জেলার কৃষি আধিকারিক সুকান্ত সাহা রায়, কৃষ্ণা সীট, এবং এসবিআই জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আধিকারিকেরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি আধিকারিকরা জানান, ফসলের যেকোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে আর্থিক সুরক্ষা পাওয়ার জন্য ফসল বীমা করা অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে জেলার ইতিমধ্যেই কয়েক লক্ষ কৃষক এই ফসল বীমা যোজনার আওতায় এসেছেন। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক কৃষককে এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আধিকারিকদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ে ফসল নষ্ট হলে কৃষকদের ঋণের বোঝা বেড়ে যায় এবং চাষের আগ্রহ কমে যায়। ফসল বীমা থাকলে সেই আর্থিক ধাক্কা অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব। তাই রবি মরশুমের শুরুতেই কৃষকদের আবেদন করার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এই ট্যাবলো প্রচার কর্মসূচির মাধ্যমে প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকরাও সরাসরি সরকারি প্রকল্পের তথ্য পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং কৃষিকে টেকসই করে তুলতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এই উদ্যোগে খুশি জেলার কৃষকরাও।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন