মোদীর সভায় যেতে বাধা, পুলিশের বিরুদ্ধে বিজেপির গুরুতর অভিযোগ

নদিয়া: তাহেরপুরে (Taherpur rally) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল রাজ্যের দুই জেলায়। বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা থেকে বিজেপির নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সভায় যোগ দিতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল থেকেই মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া সংযোগকারী ১২ নম্বর জাতীয় সড়কে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার বিভিন্ন ব্লক ও মণ্ডল থেকে শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক বাস, ছোট চারচাকা গাড়ি এবং মোটরবাইক নিয়ে তাহেরপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর ও বেলডাঙা থানার মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছতেই পুলিশ তাঁদের গাড়ি থামিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। বিজেপির দাবি, কোনও লিখিত নির্দেশ বা স্পষ্ট কারণ ছাড়াই জাতীয় সড়কের উপর পুলিশ ভ্যান দাঁড় করিয়ে কার্যত রাস্তা অবরোধ করে রাখা হয়।

   

বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি মলয় মহাজন অভিযোগ করে বলেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বহরমপুর থেকে কলকাতাগামী জাতীয় সড়কে পরিকল্পিতভাবে পুলিশ ভ্যান দাঁড় করিয়ে বিজেপি কর্মীদের আটকে রাখা হয়। শান্তিপূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যোগ দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থেকেও তাঁদের বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিজেপির আরও দাবি, শুধু বড় যানবাহন নয়, ছোট গাড়ি ও বাইককেও যেতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘক্ষণ জাতীয় সড়কে দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য হন বহু কর্মী। পরে বিকল্প রাস্তা ধরেও যাওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও পুলিশি নজরদারির মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিজেপি নেতাদের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। রাজ্যজুড়ে বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে বানচাল করার জন্য প্রশাসনকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তাঁদের বক্তব্য, শাসক দলের সভা ও কর্মসূচিতে এই ধরনের পুলিশি বাধা দেখা যায় না, কিন্তু বিজেপির ক্ষেত্রে বারবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

অন্যদিকে, পুলিশের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, জাতীয় সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থেই সাময়িকভাবে কিছু গাড়ি থামানো হয়েছিল। কোনও রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি পুলিশের।

তবে বিজেপি নেতৃত্ব পুলিশের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন। তাঁদের প্রশ্ন, যদি বিষয়টি শুধুই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের হতো, তাহলে কেন মূলত বিজেপি কর্মীদের গাড়িই আটকে রাখা হলো। এই বিষয়ে পুলিশের তরফে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মেলায় সন্দেহ আরও গভীর হয়েছে বলে দাবি বিজেপির।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, বিষয়টি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পথও খোলা রাখা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ওঠা এই অভিযোগ রাজ্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। আসন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও নির্বাচনী আবহে এই ঘটনা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন