
রবিবার সকালে হঠাৎ গুলির শব্দে চমকে ওঠেন ভাটপাড়া (Bhatpara) পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একাধিকবার গুলির আওয়াজ শোনা যায়, যা শুনে এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আতঙ্ক। অনেকেই ভয়ে ঘর থেকে বেরোতে সাহস পাননি, কেউ কেউ দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল হওয়ায় রাস্তাঘাটে স্বাভাবিকভাবেই লোকজনের চলাচল ছিল তুলনামূলক বেশি। এমন সময় আচমকা গুলির শব্দে হইচই পড়ে যায়। অনেকে প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরপর শব্দ শোনার পর নিশ্চিত হন যে সেটি গুলির আওয়াজ। আতঙ্কে শিশুরা কাঁদতে শুরু করে, বয়স্ক মানুষজনের মধ্যে দেখা দেয় চরম উদ্বেগ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা এলাকা থমথমে হয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ভাটপাড়া থানার পুলিশ। পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রেখে তল্লাশি শুরু করে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। কে বা কারা গুলি চালিয়েছে এবং কী উদ্দেশ্যে এই গুলিচালনা, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় মাঝেমধ্যেই দুষ্কৃতীদের আনাগোনা দেখা যায়। তবে প্রকাশ্যে দিনের আলোয় এই ধরনের গুলির ঘটনা আগে ঘটেনি বলে জানান তাঁরা। তাঁদের আশঙ্কা, এই ঘটনার পেছনে কোনও পুরনো বিবাদ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা অপরাধচক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।
গুলির ঘটনার জেরে রবিবার সকাল থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। বহু মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হননি। দোকানপাটের বেশিরভাগই বন্ধ ছিল, রাস্তায় লোকজনের চলাচল ছিল কম। অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই শিশুদের বাইরে যেতে দেননি। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সময় কেউ আহত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় পুলিশ অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। ভাটপাড়া পুরসভা এলাকায় এই ধরনের গুলির ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, ছুটির দিনে সকালে প্রকাশ্যে গুলি চলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্রশাসনের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা।









