দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী ব্লকে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে, (Basanti)যা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, বচসার এক পর্যায়ে একপক্ষের লোকজন বাঁশ ও লাঠি নিয়ে অপরপক্ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয় নাসিমা লস্কর নামে এক মহিলাকে।
ঘটনাটি ঘটেছে বাসন্তী ব্লকের কাঁঠালবেড়িয়া পঞ্চায়েতের উত্তর ভাঙনখালি গ্রামে। আহত মহিলা গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, যাতে মারধরের নৃশংস দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এবং নিন্দার ঝড় উঠেছে।জানা গিয়েছে, উত্তর ভাঙনখালি গ্রামের একটি ফিসারি (মৎস্যখামার)-এর রাস্তা দিয়ে এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াত করেন।
সিঁদুরের প্রতিশোধে প্রকাশ্যে ভারতে নাশকতার হুমকি লস্কর প্রধানের
এই রাস্তাটি নিয়ে নাসিমা লস্করের পরিবার এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে পুরনো বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে ফের রাস্তা ব্যবহার নিয়ে বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, বচসার মাঝে হঠাৎ প্রতিবেশী পক্ষের কয়েকজন যুবক এসে নাসিমা লস্করের ওপর আক্রমণ চালায়। বাঁশ, লাঠি এবং অন্যান্য ধারালো জিনিস নিয়ে তাঁকে মাটিতে ফেলে বেধড়ক মারধর করা হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মহিলা প্রাণপণে বাঁচার চেষ্টা করছেন, চিৎকার করে সাহায্য চাইছেন, কিন্তু আক্রমণকারীরা থামছেন না। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কোনওমতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন নাসিমা। পরে তিনি বাসন্তী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।আহত নাসিমা লস্কর জানান, “রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করছিলাম, হঠাৎ ওরা এসে আমাকে আটকে ফেলে। বচসা শুরু হতেই লাঠি-বাঁশ নিয়ে মারতে শুরু করে। আমি মাটিতে পড়ে যাই, তবু থামেনি।
প্রাণে মারার চেষ্টা করেছে। কীভাবে যে পালিয়ে বেঁচেছি!” তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানান, এলাকায় এই রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। প্রতিবেশীরা প্রায়ই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা নিয়ে বারবার ঝামেলা হয়। এবারের ঘটনা অত্যন্ত নৃশংস। ভাইরাল ভিডিও দেখে এলাকার অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক বাসিন্দা বলেন, “একজন মহিলাকে এভাবে মারধর করা মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
“ঘটনার খবর পেয়ে বাসন্তী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। আহত মহিলাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আক্রমণে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। থানার ওসি বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। ভিডিও দেখে তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে যাতে আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।”
