লগ্নজিতা ইস্যুতে ‘গরম’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি বাংলাপক্ষের

bangla-pokkho-warning-lagnajita-controversy

কলকাতা: বিলম্বিত বোধোদয় বাংলাপক্ষের। পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে গান (Bangla Pokkho)গাইতে গিয়ে চরম হেনস্থা হতে হয় গায়িকা লগ্নজিতাকে। মঞ্চে উঠে মেহবুব মল্লিক নামে এক তৃণমূল নেতা সেক্যুলার গান গাইতে হবে বলে হুমকি দেয়। এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিবৃতি চাওয়া হলে বাংলাপক্ষের কৌশিক মাইতি বলেন তিনি কিছুই জানেন না। তার সিসিটিভি ফুটেজ লাগবে বিবৃতি দিতে। কোনও সংবাদমাধ্যমের কথায় তিনি বিবৃতি দেবেন না।

সোমবার বাংলাপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্ব কৌশিক মাইতি তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছেন “শিল্পী লগ্নজিতা চক্রবর্তীর সাথে ভগবানপুরে যা ঘটেছে তা অপরাধ৷ শিল্পী কি গান গাইবেন, সেটা তার স্বাধীনতা। শিল্পীর গানে হিন্দু-মুসলিম কি শব্দ, কি বিষয়- এগুলো বাংলায় বিবেচ্য ছিল না। এরপর বাংলায় ঘটলে সোজা তাকে গরম করে দেওয়া উচিত।” সুতরাং এই পোস্ট দেখে স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে যে বাংলাপক্ষ দেরিতে হলেও প্রতিবাদ করেছে।

   

নির্বাচন এলেই মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চায় বিজেপি, তোপ মমতার

তবে এবারও কোনও সিসিটিভি ফুটেজ না দেখেই প্রতিবাদে সরব হয়েছে বাংলাপক্ষ। যদিও এমন অনেক ঘটনারই প্রতিবাদ বাংলাপক্ষ করেছে যার কোনও সিসিটিভি ফুটেজ ছিলনা তবুও তারা প্রতিবাদে সরব হয়েছিল। কিন্তু লগ্নজিতার হেনস্থার ঘটনায় কেন বাংলাপক্ষের এত দেরি হল তা অনেকেরই অজানা। ঘটনাটি ঘটে শনিবার রাতে। মঞ্চে গান গাইতে উঠেছিলেন ‘বসন্ত এসে গেছে’ খ্যাত গায়িকা লগ্নজিতা।

গানের কথায় জাগো মা শব্দ উচ্চারণ করতেই তৃণমূল নেতা মেহবুব মল্লিকের হুমকি। “সাম্প্রদায়িক জাগো মা ছাড়, সেক্যুলার গান গা।” আর এই ঘটনাতেই ছড়িয়েছিল চাঞ্চল্য। রীতিমত প্রাণ হাতে করে মঞ্চ থেকে নামতে হল লগ্নজিতাকে। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরে। লগ্নজিতা অভিযোগ করেন মেহবুব তাকে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করতেই মঞ্চে উঠেছিলেন।

থানায় এই ইস্যুতে অভিযোগ জানালে অনেক টালবাহানার পর অভিযুক্ত মেহবুবকে গ্রেফতার করে ভগবানপুর থানার পুলিশ। যদিও ধৃত মেহবুব মল্লিকের ভাই মাসুদ মল্লিক দাবি করেছেন যে জাগো মা গান গাইছিলেন লগ্নজিতা এবং এই গানটি তাদের সাম্প্রদায়িক গান বলে মনে হয়েছে।

যেহেতু এই অনুষ্ঠানটি একটি স্কুলের অনুষ্ঠান ছিল তাই তিনি গায়িকাকে একটি সেক্যুলার গান গাইবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তার পরিবর্তে জনৈক গায়িকা তা গাইতে অস্বীকার করেন এবং অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেন। তারপর গায়িকা থানায় গিয়ে মেহবুবের নামে মিথ্যে অভিযোগ করেন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন