পূর্ব মেদিনীপুর: স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না, মেছেদা ও পাঁশকুড়া এলাকা। পুলিশের বাধায় কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিতে না পেরে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে সামিল হলেন শতাধিক আশা কর্মী (ASHA workers protest)। ময়নায় বাস আটকে দেওয়া থেকে শুরু করে মেছেদা ও পাঁশকুড়া স্টেশনে ট্রেন ধরতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
বুধবার আশা কর্মী ইউনিয়নের ডাকে রাজ্যজুড়ে স্বাস্থ্য ভবন অভিযান কর্মসূচি নেওয়া হয়। বেতন বৃদ্ধি, সরকারি স্বীকৃতি, স্থায়ী কর্মীর মর্যাদা, পেনশন ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে এই অভিযান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর থেকেও বহু আশা কর্মী কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
ময়না এলাকা থেকে দুটি বাস রিজার্ভ করে স্বাস্থ্য ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন আশা কর্মীরা। কিন্তু অভিযোগ, তমলুক-ময়না রাজ্য সড়কে মাঝপথে পুলিশ বাস আটকে দেয়। বাস চালক ও আশা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পুলিশের চাপে পড়ে বাস চালকরা আশা কর্মীদের নামিয়ে দেন।
এরপরেই ক্ষুব্ধ আশা কর্মীরা রাজ্য সড়কের উপর বসে পড়ে অবরোধ শুরু করেন। স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
অন্যদিকে পাঁশকুড়া রেল স্টেশনেও একই ছবি দেখা যায়। অভিযোগ, জিআরপি স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে যোগ দিতে যাওয়া আশা কর্মীদের স্টেশনের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়। বহু আশা কর্মীকে আটকে রাখা হয় স্টেশনের বাইরে। ট্রেন ধরতে না পেরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
মেছেদা ও নন্দকুমার থেকেও বহু আশা কর্মী ট্রেনে করে কলকাতায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানেও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন তাঁরা। পুলিশের এই আচরণের প্রতিবাদে মেছেদা বাস স্ট্যান্ডে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। রাস্তায় বসে পড়ে স্লোগান দেন আশা কর্মীরা।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে কাজ করে চলেছেন। গ্রামাঞ্চলে প্রসূতি মা ও শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে টিকাকরণ, স্বাস্থ্য সচেতনতা—সব কাজেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তাঁরা। অথচ এখনও তাঁরা অস্থায়ী কর্মী হিসেবেই থেকে গেছেন।
তাঁদের অভিযোগ, মাসিক সম্মানী অত্যন্ত কম। নেই কোনও স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা, নেই পেনশন বা চিকিৎসা বিমার সুবিধা। একাধিকবার রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
আশা কর্মী ইউনিয়নের নেত্রীদের দাবি, সরকার বারবার আলোচনার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনও দাবি পূরণ করা হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনের পথে নামতে হয়েছে তাঁদের। পুলিশের বাধা দিয়ে আন্দোলন থামানো যাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
ঘটনার জেরে ময়না ও মেছেদা এলাকায় সাময়িকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অফিসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েন। যদিও পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
