কয়লা চুরি অব্যাহত! আসানসোলে খনি ধসে মৃত্যু

asansol-illegal-coal-mining-collapse-death

কলকাতা: আসানসোলের কুলটিতে আবারও ভয়াবহ দুর্ঘটনা (Asansol)। অবৈধ কয়লা তোলার সময় খনিতে ধস নেমে একাধিক শ্রমিক আটকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, আরও কয়েকজনের নিখোঁজ থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রের খবর, অবিরাম কয়লা চুরি ও অবৈধ খননের ফলেই এমন বিপর্যয় ঘটছে বারবার।গতকাল রাতের দিকে কুলটির একটি খোলামুখ খনির এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

Advertisements

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে কয়েকজন শ্রমিক অবৈধভাবে কয়লা কাটতে নেমেছিলেন। হঠাৎ করে মাটির একটা বড় অংশ ধসে পড়ে তাঁদের চাপা দেয়। খবর পেয়ে তৎক্ষণাত্ কুলটি থানার পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। জেসিবি মেশিন দিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে। সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান জোরকদমে চলছে। একজনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

   

শাকসগাম উপত্যকা কার? শুরু নয়াদিল্লি-বেজিং তরজা

বাকিদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত।এই এলাকায় কয়লা চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। আসানসোল-রানিগঞ্জ কয়লাখনির অঞ্চলে বছরের পর বছর ধরে অবৈধ খনন ও চুরির সিন্ডিকেট চলছে। স্থানীয় যুবকরা, যাদের অনেকেই বেকার বা অভাবী, পেটের দায়ে রাতের বেলা এই খনিতে নামেন। কখনো পুরনো পরিত্যক্ত খাদানে, কখনো বৈধ খনির পাশে গর্ত খুঁড়ে কয়লা তোলেন। কিন্তু এই অবৈধ কাজের ফলে মাটির স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে যেকোনো সময় ধস নামতে পারে।

গত কয়েক বছরে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে ২০২৩ সালে নারায়ণকুড়ি খনিতে তিনজনের মৃত্যু, ২০২৪-এ আরও কয়েকটি দুর্ঘটনা। এমনকি ২০২৫ সালেও একাধিকবার অবৈধ খননে মৃত্যুর খবর এসেছে।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “এই চুরি রুখতে পারছে না কেউ। সিআইএসএফ আছে, পুলিশ আছে, তবু রাত হলেই লোক নেমে পড়ে। মাফিয়া-সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এতটাই যে সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খোলেন না।”

অনেকে অভিযোগ করেন যে এই অবৈধ কয়লা তোলার পিছনে রয়েছে রাজনৈতিক-প্রশাসনিক মদত। কয়লা চুরি করে বড় বড় ট্রাক ভর্তি করে বাইরে পাঠানো হয়, আর সেই লাভের একটা অংশ অনেকের পকেটে যায়। ফলে সত্যিকারের কড়াকড়ি হয় না।

এদিকে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর আধিকারিকরা বলছেন, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। যৌথ টিম করে সিআইএসএফ, পুলিশ ও খনি নিরাপত্তা দল অবৈধ খননের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু খনির বিশাল এলাকা, অন্ধকার রাত আর স্থানীয়দের সহযোগিতার অভাবে পুরোপুরি রোখা যাচ্ছে না। এই ধরনের দুর্ঘটনা শুধু জীবনহানি ঘটাচ্ছে না, খনির পরিবেশও নষ্ট করছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Advertisements