পিংলা: ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) এনুমারেশন ফর্ম বিলি ঘিরে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলায় রাজনৈতিক তরজা চরমে উঠেছে। বুথ লেভেল অফিসার বা BLO নিজ দায়িত্বে না গিয়ে, স্বামী এবং শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ফর্ম বিলি করাচ্ছেন এমনই গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) লিখিত নালিশ জানাল বিজেপি।
জানা গিয়েছে, পিংলা বিধানসভার অন্তর্গত খড়গপুর ২ ব্লকের সাঁকোয়া অঞ্চলের তেঁতুলমুড়ি রামকৃষ্ণ শিক্ষা নিকেতন স্কুলের ১৩২ নম্বর বুথে BLO হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন কবিতা রাউত দে। বিজেপির অভিযোগ, প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা এই BLO নিজে জনগণের বাড়ি না গিয়ে, নিজের স্বামী স্বপন দে-কে দিয়ে ফর্ম বিলি করাচ্ছেন। এমনকি তাঁর সঙ্গে যাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্য সুভাষ দে। যা নির্বাচন বিধি ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী বলেই দাবি বিরোধীদের।
বিজেপি ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি বলেন, “ভোটার তালিকার মতো সংবেদনশীল কাজে একজন BLO-র পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতাকে সঙ্গে নিয়ে অন্য কাউকে পাঠানো সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। এতে সাধারণ মানুষের মনে ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে ভয় ও প্রভাব তৈরির চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে এই অভিযোগ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO, West Bengal)-কে লিখিত আকারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিজেপির নির্বাচন সংক্রান্ত রাজ্য কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা শিশির বাজোরিয়া-কেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
অমূল্য মাইতির দাবি, “নির্বাচন কমিশন অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠবে।”
অভিযোগ প্রসঙ্গে ১৩২ নং বুথের BLO কবিতা রাউত দে সরাসরি কোনো অনিয়ম অস্বীকার করেননি। উলটে তিনি বলেন, “এত বাড়ি বাড়ি ঘোরা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই আমার স্বামীকে দিয়ে কাজ করাচ্ছি।”
এই মন্তব্যের পরই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। কারণ, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম স্পষ্ট BLO নিজে ছাড়া অন্য কেউ ভোটার তালিকা সংশোধনের ফর্ম বিতরণ করতে পারবেন না৷ কোনও রাজনৈতিক দলের জনপ্রতিনিধি বা তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এই প্রক্রিয়ায় থাকতে পারবেন না৷
কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সেই নিয়মই ভেঙে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও BLO-র স্বামী মিলে এই কাজ করছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি বিজেপির। ঘটনা সামনে আসার পর এখনও পর্যন্ত তৃণমূল নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে বিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতির গণ্ডি পার করে সাংবিধানিক নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতার প্রশ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশন যত দ্রুত তদন্ত শুরু করবে, ততই মানুষের আস্থা বজায় থাকবে। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রে BLO-র অপসারণ, প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং নির্বাচনী আইন অনুযায়ী শাস্তির সম্ভাবনাও রয়েছে।
