দিঘা: পূর্ব মেদিনীপুরের জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত মন্দারমণিতে (Mandarmani illegal construction) পরিবেশ আইন ও উপকূল বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধ নির্মাণ চলছিল। মন্দারমণি কোস্টাল থানার পুলিশ এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়ে ৩২ জন নির্মাণকর্মীকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মিত টহলের সময় সৈকত সংলগ্ন তিনটি পৃথক স্থানে সরকারি জমি দখল করে অবৈধ নির্মাণ কাজ চলছিল। উপকূল নিয়ন্ত্রণ বিধি অনুযায়ী সমুদ্রের জোয়ার-ভাটার এলাকায় স্থায়ী কোনো নির্মাণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তারপরও ‘শিবম’, ‘খোকাবাবু’ নামের দুটি রিসোর্ট এবং একটি নতুন বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছিল। সরকারি জমি দখল করে সমুদ্র সৈকতের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ অভিযানে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, সমুদ্রের জোয়ারের এলাকায় কংক্রিটের পিলার বসিয়ে অবৈধ নির্মাণ কাজ চলছিল। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।
অভিযানে দেখে বেশ কয়েকজন নির্মাণকর্মী পালিয়ে গেলে, ঘটনাস্থল থেকে ৩২ জনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে নির্মাণ সামগ্রী, বালি, সিমেন্ট এবং যন্ত্রপাতি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, মাটি চুরি, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং উপকূল নিয়ন্ত্রণ বিধি লঙ্ঘনের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বুধবার তাদের কাঁথি মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, রিসোর্ট মালিক ও মূল উদ্যোক্তাদের খোঁজে বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানানো হয়েছে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। তাদের অভিযোগ, পর্যটন ব্যবসার আড়ালে একশ্রেণির প্রভাবশালী মানুষ অবৈধভাবে লাভের পথ তৈরি করছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপকূল এলাকায় অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নজরদারি চালানো হবে, যাতে সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ সুরক্ষিত রাখা যায়।
