SIR-এ খসড়া ভোটার তালিকায় বাদ মতুয়াদের নাম, প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী!

sir-bengal-draft-voter-list-matua-names-deleted-bongaon

“কারও নাম বাদ যাবে না” এসআইআর (SIR) ঘিরে এই আশ্বাসই দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর সেই আশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন উঠল বনগাঁ মহকুমায়। মঙ্গলবার প্রকাশিত খসড়া তালিকায় চারটি বিধানসভা মিলিয়ে প্রায় ৮৬ হাজার ১৭৫ জন ভোটারের নাম নেই। বাদ পড়াদের বড় অংশ মতুয়া অধ্যুষিত এলাকার বাসিন্দা, এই অভিযোগ ঘিরেই নতুন করে আতঙ্ক, ক্ষোভ আর রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে।

নিলামে অবিক্রিত এই বাংলার ক্রিকেটারকে দলে টেনে চমকে দিল নাইট শিবির

   

বনগাঁ উত্তর, বনগাঁ দক্ষিণ, গাইঘাটা ও বাগদা চার বিধানসভা এলাকা থেকেই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি ২৬ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম খসড়া তালিকায় নেই। বাগদায় বাদ গিয়েছে ২৪ হাজার ৯২৭ জন, গাইঘাটায় ১৬ হাজার ৬৪২ এবং বনগাঁ দক্ষিণে ১৮ হাজার ৫৬৩ জনের নাম। নির্বাচন কমিশনের ব্যাখ্যায় এঁদের মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত, অস্তিত্বহীন ও অন্যান্য ভোটার রয়েছেন। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, বাস্তবে বহু মতুয়া উদ্বাস্তু মানুষও তালিকার বাইরে চলে গিয়েছেন।

খসড়া তালিকা প্রকাশের পর থেকেই মতুয়া অধ্যুষিত এলাকায় ছড়িয়েছে আতঙ্ক। গাইঘাটার মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে এসে নিজের নাম খুঁজে না পেয়ে উদ্বিগ্ন এক ব্যক্তি জানান, “কিছুই বুঝতে পারছি না। সিএএতে আবেদন করেছি। নাগরিকত্ব না পেলে শেষ পর্যন্ত কি ডিটেনশন ক্যাম্পেই যেতে হবে?”

নিলামে দড়ি টানাটানির শেষে শাহরুখের দলে এই বাংলাদেশি পেসার

বাগদার রংঘাট এলাকার এক ব্যক্তি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি ওপার বাংলা থেকে এসেছিলাম। এখন আবার কি উদ্বাস্তু হতে হবে?”

রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র। খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলেছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দাবি, “এসআইআরের মাধ্যমে মতুয়া উদ্বাস্তুদের বিতাড়নের চক্রান্ত করছে বিজেপি। আমরা শুরু থেকেই বলছিলাম। এবার তা প্রমাণিত।”

রাসেলের শূন্যতা পূরণে নাইটদের নতুন এই পাওয়ার হিটারকে চিনে নিন

গাইঘাটা বিধানসভা এলাকায় মতুয়া ঠাকুরবাড়ি অবস্থিত। ওই কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুরের কোনও প্রতিক্রিয়া না মিললেও, গাইঘাটার বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য—বেশিরভাগ নামই মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারের। বনগাঁর সাংসদ ও কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বলেন,“যাদের নাম বাদ গিয়েছে তারা অস্তিত্বহীন, মৃত ভোটার কিংবা অনুপ্রবেশকারী। মতুয়াদের নাম বাদ গিয়েছে কি না, তা না দেখে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।”

এই বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন বিরোধীরা। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতা ঠাকুরের অভিযোগ, “কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মতুয়া উদ্বাস্তুদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে। আমরা এর বিরুদ্ধে দিল্লিতে আন্দোলনে যাব।”

সিপিএমও সরব। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী মতুয়া ঠাকুরবাড়ি গিয়ে বলেন, “মতুয়াদের ভোটে যাঁরা সাংসদ, মন্ত্রী হয়েছেন, নাম বাদ গেলে তার দায় তাঁদেরই নিতে হবে। প্রয়োজনে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।”

খসড়া তালিকা প্রকাশের পর সংশোধনের সুযোগ থাকলেও, ততদিনে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।এসআইআর কি শুধুই প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নাকি রাজনৈতিক অস্ত্র? ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় আজ বনগাঁর মতুয়া অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন