তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নেত্রী শশী পাঁজা (shashi panja) শুক্রবার শিলিগুড়িতে ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (DYFI)-এর প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে বিরোধী দলগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে রাজ্যকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এবং তাদের গণতান্ত্রিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এএনআই-এর সঙ্গে কথা বলার সময় শশী পাঁজা বলেন, “এই লোকেরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। ৩৪ বছর ধরে যখন তাদের সরকার ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা কেন কাজ করেনি? বাংলায় নির্বাচন এলেই তৃণমূলের প্রতিদ্বন্দ্বীরা হঠাৎ জেগে ওঠে এবং ভাবে তারা ক্ষমতায় আসবে।”
বিরোধীদের উদ্দেশ্য নিয়ে শশী পাঁজার (shashi panja)অভিযোগ
শশী পাঁজা অভিযোগ করেন, বিরোধী দলগুলো শুধুমাত্র নির্বাচনের সময় সক্রিয় হয় এবং অশান্তি সৃষ্টি করে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে। তিনি বলেন, “তারা পশ্চিমবঙ্গে শান্তি পরিস্থিতি বিঘ্নিত করতে চায়। বিজেপি রাষ্ট্রপতি শাসন চায়। কিন্তু তৃণমূল বলছে, এখানে শুধু ‘মা মাটি মানুষ’-এর শাসন থাকবে। আপনারা যদি আইন-শৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা করেন, তাহলে রাজনৈতিক গর্তে পড়বেন।” তিনি বিরোধীদের সতর্ক করে বলেন, জনগণ তাদের এই চক্রান্ত বুঝতে পেরেছে।
শিলিগুড়িতে ডিওয়াইএফআই-এর প্রতিবাদ
এদিন শিলিগুড়িতে ডিওয়াইএফআই-এর কর্মীরা উত্তরকন্যা মিনি সচিবালয়ের দিকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে। তারা রাজ্যে দুর্নীতি এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে কথা তুলে কর্মসংস্থানের দাবি জানায়। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে এবং প্রতিবাদকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। পরে পুলিশ শিলিগুড়িতে ফ্ল্যাগ মার্চও করে।
প্রতিবাদকারী রত্না চৌবে বলেন
প্রতিবাদকারী রত্না চৌবে বলেন, “যুবকরা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেছিল। আমরাও তাদের সঙ্গে ছিলাম। পুলিশ যেভাবে লাঠিচার্জ করেছে, পুরুষ পুলিশ মহিলা প্রতিবাদকারীদের মারধর করেছে। ডিওয়াইএফআই-এর মীনাক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমাদের তরফে কোনো হিংসা হয়নি, সব শান্তিপূর্ণ ছিল। যুবকরা বেকারত্বের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিল।
পুলিশ এটি জানত, তবু আমাদের আটকানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি একটি বড় সমস্যা।” তিনি আরও বলেন, “চা বাগানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। চা শ্রমিকরা উপযুক্ত মজুরি পাচ্ছে না। কর্পোরেটরা এর নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে।” তিনি সরকারের নীতির সমালোচনা করে জনগণের অসন্তোষের কথা তুলে ধরেন।
পুলিশের বক্তব্য
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসিপি রাকেশ সিং জানান, “পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। এটি শান্তিপূর্ণ। শীঘ্রই স্বাভাবিক যান চলাচল শুরু হবে।” তিনি প্রতিবাদের পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কথা জানান।
বিজেপির পূর্ববর্তী প্রতিবাদ
এর আগে, ২২ মার্চ কলকাতায় বিজেপি কর্মীরা তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। তারা সম্প্রতি প্রবর্তিত একটি বিলের বিরোধিতা করে, যা মহিলাদের বারে কাজ করার অনুমতি দেয়। এই ঘটনা রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
শশী পাঁজার অবস্থান
শশী পাঁজা (shashi panja) বিরোধীদের ৩৪ বছরের শাসনকালের সমালোচনা করে বলেন, “তারা যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন রাজ্যের উন্নয়নের জন্য কী করেছে? এখন নির্বাচনের আগে তারা জেগে উঠেছে।” তিনি তৃণমূলের “মা মাটি মানুষ” নীতির উপর জোর দিয়ে বলেন, “আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। বিরোধীরা শুধু বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।” তিনি বিজেপির রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবিকে “অগণতান্ত্রিক” বলে আখ্যা দেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
পশ্চিমবঙ্গে আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলেও, বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে বিজেপি এবং সিপিআই(এম)-এর সহযোগী সংগঠন ডিওয়াইএফআই, সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার করেছে। ডিওয়াইএফআই-এর প্রতিবাদে বেকারত্ব এবং দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে, যা তৃণমূলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
আরো দেখুন পরবর্তী তামিলনাড়ু ভোটে ডিএমকে কে নিশ্চিহ্ন করার ডাক অমিত শাহের
প্রতিবাদের প্রভাব
শিলিগুড়ির প্রতিবাদে পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছেন, তাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অযথা বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। রত্না চৌবে বলেন, “মহিলাদের উপর পুরুষ পুলিশের হাত তোলা অগ্রহণযোগ্য। আমরা শুধু আমাদের অধিকারের কথা বলছিলাম।” এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সরকারের সমালোচনাকে আরও তীব্র করেছে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
শশী পাঁজা এই প্রতিবাদকে বিরোধীদের “রাজনৈতিক খেলা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের প্রতিবাদ দিয়ে তারা কিছু অর্জন করতে পারবে না। জনগণ তৃণমূলের সঙ্গে আছে।” তিনি দাবি করেন, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে এবং বিরোধীদের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
শিলিগুড়ির ঘটনা এবং শশী পাঁজা বক্তব্য পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়িয়েছে। তৃণমূল যেখানে নিজেদের জনগণের পক্ষের দল বলে দাবি করছে, সেখানে বিরোধীরা সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরছে। আগামী দিনে এই সংঘাত কী রূপ নেয়, তা রাজ্যের রাজনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে।