
ভোটের আবহে উত্তাল বাংলা রাজনীতি। একদিকে তৃণমূল, অন্যদিকে বিজেপি—দুই বিপরীত শিবিরের মুখোমুখি লড়াই যখন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়েই রাজনীতির গণ্ডি ছাপিয়ে উঠে এল বিনোদন জগতের এক অন্যরকম মুহূর্ত। হুগলিতে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তীর প্রশংসায় অকপট হতে দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
মঙ্গলবার হুগলির বাঁশবেড়িয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প যাত্রা’ উপলক্ষে মানকুন্ডুতে আসার কথা রয়েছে মিঠুন চক্রবর্তীর। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই আবেগে ভেসে যান হুগলির সাংসদ। রাজনৈতিক বিভাজন সত্ত্বেও মিঠুন চক্রবর্তীর প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা ও ভালবাসার কথা প্রকাশ্যে জানান রচনা।
তিনি বলেন, মিঠুন চক্রবর্তীকে তিনি কখনওই শুধুমাত্র একজন রাজনীতিক হিসেবে দেখেন না। রচনার বক্তব্যে উঠে আসে, ভারতীয় চলচ্চিত্রে মিঠুনের অবদান তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। বাঙালি শিল্পী হয়েও যেভাবে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তা নজিরবিহীন বলেই মনে করেন তৃণমূল সাংসদ।
কথার মধ্যেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসেন রচনা। মিঠুনের সঙ্গে একাধিক ছবিতে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। জানান, এক সময় পর্দায় মিঠুনই ছিলেন তাঁর নায়ক। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হলেও শিল্পী ও মানুষ হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীর প্রতি তাঁর অনুভূতি এতটুকুও বদলায়নি বলেই স্পষ্ট করেন রচনা।
রচনার মতে, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা হিসেবে মিঠুন চক্রবর্তীর অবস্থান প্রশ্নাতীত। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পেশাদার স্মৃতির জায়গাটি তাঁর কাছে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। রাজনীতি আলাদা হতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রতি ভালবাসা ও সম্মান কখনওই ভোটের অঙ্কে বাঁধা থাকে না—এই বার্তাই যেন ধরা পড়ল রচনার বক্তব্যে।
ভোটের আগে বাংলার রাজনীতিতে যখন আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ তুঙ্গে, তখন এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। দুই দলের সমর্থকরাই আলোচনায় মেতেছেন—রাজনৈতিক লড়াইয়ের মাঝেও কি থেকে যায় শিল্পীসত্তা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সেই পুরনো বন্ধন?







