
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে শীতের মরশুম জাঁকিয়ে পড়েছে (Weather Forecast in West Bengal)। ১৫ ডিসেম্বর, সোমবার, উত্তর ও দক্ষিণ উভয় বঙ্গেই শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কোনো বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই, তবে সকালে ঘন কুয়াশা এবং রাতে তাপমাত্রা আরও নামার কারণে শীতের অনুভূতি বাড়বে। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগের (আইএমডি) সাম্প্রতিক বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে শীতের দাপট অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে, যেমন কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম ইত্যাদিতে দিনের তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকবে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে যেতে পারে, যা স্বাভাবিকের থেকে ২-৩ ডিগ্রি কম। সকালে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে, যা দুপুরের দিকে কেটে যাবে।
জানুয়ারিতে বড় চমক? কেন্দ্রীয় কর্মীদের DA বাড়িয়ে ৬০% করার ইঙ্গিত
আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকলেও উত্তর-পশ্চিমী হাওয়ার প্রভাবে শীতের শিরশিরানি অনুভূত হবে। কলকাতায় বিশেষ করে ভোররাতে এবং সকালে কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমতে পারে, যা যানবাহন চালকদের সতর্ক থাকতে হবে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে কোনো ওয়েস্টার্ন ডিস্টার্ব্যান্সের প্রভাব না থাকায় বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।
ফলে শুষ্ক আবহাওয়া চলবে, যা শীতকে আরও তীব্র করবে।উত্তরবঙ্গের ছবি আরও শীতল। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহের মতো জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২০ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। পাহাড়ি এলাকায়, যেমন দার্জিলিংয়ে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রির নিচেও নেমে যেতে পারে।
সকালে ঘন কুয়াশা থাকবে, যা পর্যটকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে দিনের বেলা আকাশ পরিষ্কার হয়ে রোদ উঠবে। উত্তরবঙ্গে শীতের দাপট বেশি হওয়ায় স্থানীয়রা ইতিমধ্যে গরম কাপড় বের করে ফেলেছেন। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, উত্তরের পাহাড় থেকে নেমে আসা ঠান্ডা হাওয়া দক্ষিণবঙ্গকেও প্রভাবিত করছে, ফলে পুরো রাজ্যেই শীতের অনুভূতি বাড়ছে।
আইএমডির সাম্প্রতিক প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে যে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শীত আরও জাঁকিয়ে পড়বে। কোনো সাইক্লোনিক সার্কুলেশন না থাকায় শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে কুয়াশার কারণে সকালে ট্রাফিক জ্যাম বা বিমান চলাচলে বিলম্ব হতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা বিমানবন্দরে যাত্রীদের আগে থেকে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য এই শুষ্ক আবহাওয়া সুবিধাজনক, কারণ রবি শস্যের জন্য এটি আদর্শ। তবে রাতের শীতে ফসলের উপর হালকা প্রভাব পড়তে পারে।









