মালদা: মালদার চাঁচলে নির্ধারিত রাজনৈতিক সভা বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে ফের রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব হলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মালদার মহম্মদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লাটিনাম জুবিলী উৎসবের প্রথম দিনে উপস্থিত হয়ে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন।
সভা বাতিল প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, চাঁচলে তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করা নতুন কোনও ঘটনা নয়। তাঁর দাবি, “এই সরকার পরিকল্পিতভাবে বিজেপির সভা আটকে দিচ্ছে। অন্তত ১০২ বার এভাবে কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।” বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দমন করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, আগামী ২৯ তারিখ কলকাতা হাইকোর্টের ভ্যাকেশন বেঞ্চে এই বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আইনি আবেদন জানানো হবে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “আর দেড় মাস সময় রয়েছে। তারপর আর কোনওভাবেই সভার অনুমতি আটকে রাখা যাবে না।” তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার হাল নিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে। তাঁর অভিযোগ, “গত ১৫ বছরে প্রায় ১৯ হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে গ্রামের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।” সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার মান ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শুধু শিক্ষা নয়, উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার উন্নয়নের নামে শুধুমাত্র প্রচার চালাচ্ছে, বাস্তবে সাধারণ মানুষ তার সুফল পাচ্ছে না। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ সংক্রান্ত একটি টোটো ভাঙচুরের অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু।
এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করলেও শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “ওই টোটো আসলে পুকুরে উল্টে গিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিজেপির কর্মীদের ফাঁসাতে মিথ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, পুলিশ শাসক দলের নির্দেশে কাজ করছে এবং বিরোধী কণ্ঠরোধ করাই এর মূল লক্ষ্য।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যের সামাজিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, রাজ্যে হিন্দুদের উপর ধারাবাহিকভাবে অত্যাচার চলছে। “মানুষ সব দেখছে, বুঝছে। আর দেড় মাস সময় রয়েছে, তারপরেই সবকিছু বদলে যাবে,”— এমন মন্তব্য করে তিনি রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন।
মহম্মদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্লাটিনাম জুবিলী উৎসবে এসে শিক্ষকদের ভূমিকা ও বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের প্রশংসা করলেও, রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষা নীতি নিয়ে তাঁর অসন্তোষ স্পষ্ট করে তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। প্রশাসনিক ব্যর্থতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগে তাঁর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপি সূত্রে জানানো হয়েছে, তারা আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন জোরদার করবে।


