শিলিগুড়িতে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে বিজেপিতে যোগ ৩৫০ জন যুবক-যুবতীর

শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে শনিবার এক নতুন চিত্র ধরা পড়ল (Siliguri youths)। “জয় শ্রী রাম” ও “জয় মা দুর্গা” ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠল শহরের একাধিক…

siliguri-youths-join-bjp-bengal-assembly-elections

শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গের রাজনীতির ময়দানে শনিবার এক নতুন চিত্র ধরা পড়ল (Siliguri youths)। “জয় শ্রী রাম” ও “জয় মা দুর্গা” ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠল শহরের একাধিক এলাকা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির শক্তি বাড়াতে শিলিগুড়িতে যোগ দিল প্রায় ৩৫০ জন যুবক-যুবতী। এই যোগদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারি। তাঁর হাত ধরেই আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন এই তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।

Advertisements

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই যোগদান কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি বাংলার রাজনীতিতে এক গভীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত। বিশেষ করে জেন-জি এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিজেপির প্রতি আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে। শিলিগুড়ির এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছে বাংলার যুব সমাজ পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের মুখ হিসেবে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেই দেখছে।

   

পদ্মাপারের আসন্ন নির্বাচনে হিন্দু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

যোগদান সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রদীপ ভাণ্ডারি বলেন, “বাংলার যুব সমাজ আর পুরনো রাজনীতিতে আস্থা রাখছে না। তারা কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং আত্মসম্মানের রাজনীতি চায়। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগোচ্ছে, সেই উন্নয়নের অংশীদার হতে চায় বাংলার তরুণরাও।” তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসে ‘নিউ বেঙ্গল’ এবং ‘নিউ ইন্ডিয়া’-র ধারণা।

স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, যোগদানকারীদের মধ্যে ছাত্র, তরুণ চাকরিপ্রার্থী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং প্রথমবার ভোট দিতে চলা যুবকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। অনেকেই দাবি করেছেন, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক হিংসা, দুর্নীতি এবং কর্মসংস্থানের অভাব তাদের হতাশ করেছে। সেই হতাশা থেকেই তারা বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন।

একজন নতুন যোগদানকারী যুবক বলেন, “আমরা শুধু স্লোগান নয়, কাজ দেখতে চাই। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার যেভাবে স্টার্টআপ, ডিজিটাল ইন্ডিয়া ও স্কিল ডেভেলপমেন্টে জোর দিয়েছে, আমরা চাই সেই মডেল বাংলাতেও কার্যকর হোক।” একই সুর শোনা যায় একাধিক তরুণীর কণ্ঠেও। তাঁদের মতে, নিরাপত্তা ও স্বনির্ভরতার প্রশ্নে বিজেপির নীতিই তাদের বেশি আকর্ষণ করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গ বিশেষ করে শিলিগুড়ি অঞ্চলে যুব ভোটারদের মনোভাব আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। শিলিগুড়ি শুধুমাত্র একটি শহর নয়, এটি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার। ফলে এখানে রাজনৈতিক বার্তার প্রভাব গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি সেই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই যুব সমাজকে সংগঠিত করার কৌশল নিয়েছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস এই যোগদান কর্মসূচিকে ‘প্রচারমূলক নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে। তাদের দাবি, রাজ্যের যুব সমাজ এখনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশেই রয়েছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, “ভোটের দিনই বোঝা যাবে বাংলার যুব সমাজ কোন দিকে দাঁড়িয়ে।”

সব মিলিয়ে শিলিগুড়ির এই কর্মসূচি স্পষ্ট করে দিয়েছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলার রাজনীতিতে যুব শক্তি একটি বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে চলেছে। ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় মা দুর্গা’-র ধ্বনির মধ্য দিয়ে বিজেপি যে বার্তা দিতে চেয়েছে, তা এক কথায় পরিবর্তনের ডাক, আর সেই ডাকে সাড়া দিচ্ছে বাংলার জেন-জি।

Advertisements