Jalpaiguri : ধূপগুড়ির ভোটে দুটো ভয়, যদি হাতির হানা হয়! যদি ‘সাগরদিঘি’ হয়

ধুপগুড়ি বিধানসভার উপনির্বাচন ঘিরে তৃণমূল, বিজেপি বামের লড়াইয়ের মাঝে আলোচনা এখানেও কি সাগরদিঘির মতো কিছু চমক হবে? সাম্প্রতিক সময়ে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘিতে পরাজিত হয় তৃ়ণমূল। জয়ী হয়েছিল বাম-কংগ্রেস জোট। আর জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার ধূপগুড়িতে চলছে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই। এরমধ্যেই শুরু হয়েছে নির্বাচনের প্রস্তুতি। বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপদ রায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে ধূপগুড়ি আসনটি শূন্য হয়েছে। তাই উপনির্বাচন। এই কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে ২ লক্ষ ৬৮ হাজারের বেশি ভোটদাতা ২৬০টি বুথে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন।

ধুপগুড়ি উপনির্বাচনে তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিআইএম তৈরি। তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে তীব্র গোষ্ঠিবাজি চলছে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। আর বিজেপি ছেড়ে তৃ়নমূলে এসেছেন বিক্ষুব্ধরা। গোটা রাজ্য তাকিয়ে রয়েছে এই নির্বাচনের ফলের দিকে। ভোট গণনা ৮-ই সেপ্টেম্বর।

   

ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের উপ-নির্বাচনে মঙ্গলবার ভোট নেওয়া হবে। সকাল সাতটায় শুরু হবে ভোটপর্ব। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। জলপাইগুড়ি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ভোটকর্মীরা ভোটযন্ত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে রওনা হচ্ছেন ধূপগুড়ির বিভিন্ন বুথের দিকে। ভোট গ্রহণ, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নজরদারির জন্য একজন সাধারণ পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি একজন করে পুলিশ ও ব্যয় পর্যবেক্ষকও থাকবেন। এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোট ৭২টি বুথ রয়েছে এবং তা অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এছাড়াও নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাথে থাকছে রাজ্য পুলিশ। এই উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।

বেশ কয়েকদিন আগেই নজরে এসেছে জলপাইগুড়ি  জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দীপেন প্রামানিক তৃণমূলে যোগ দেন। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক মিতালি রায় শাসক দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেন। অন্যদিকে ধুপগুড়িতে রাজবংশী এবং মতুয়া ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেই জন্যই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এই দুই সম্প্রদায়ের ভোট নেওয়ার ক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ৫ তারিখের ভোটের পর ৮ তারিখে ফল প্রকাশ তারপরে যে কি সমীকরণ হবে তা বলা দায়।

এবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দুটি মহিলা পরিচালিত বুধ করা হয়েছে। ধুপগুড়ি যেহেতু জঙ্গল এলাকা তার আশেপাশের চা বাগান রয়েছে তাই যেকোনো সময় হাতি বা বিভিন্ন জন্তু আসতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন বিশেষ নজর দিয়েছে। বৈঠক করা হয়েছে বনদফতরের সঙ্গে যাতে ভোট কর্মীদের কোনও রকম সমস্যায় পড়তে না হয়। এবার ৫ তারিখের ভোটের পর ৮ তারিখে কি রায় দেয় ধুপগুড়ির বাসিন্দারা সেই দিকেই থাকবে ফোকাস।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন