
মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রাজনৈতিক মানচিত্রে ফের আলোচনার কেন্দ্রে শাহনাজ বেগম। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই পুরনো দল কংগ্রেসে ‘ঘর ওয়াপসি’ করলেন তিনি। শনিবার বহরমপুরে জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নেন শাহনাজ। তাঁর সঙ্গে কংগ্রেসে যোগ দেন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক জালাল শেখও।
মেসির সঙ্গে স্মরণীয় সাক্ষাতের পর আবেগঘন বার্তা চায়নাম্যান স্পিনারের
কংগ্রেসে যোগ দিয়েই শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন শাহনাজ। জেলা পরিষদের কাজের ধরন, স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কংগ্রেসে ফিরে শাহনাজের স্পষ্ট বক্তব্য, “জেলা পরিষদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি একা লড়াই করেছি। চোরের সাম্রাজ্যে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি বলেই কংগ্রেসে যোগ দিলাম। এখানে স্বাধীনভাবে সংগঠন করার সুযোগ রয়েছে, খোলা মনে নিশ্বাস নেওয়া যায়।”
উল্লেখ্য, গত ১৭ ডিসেম্বর রেজিনগর বিধানসভার জেলা পরিষদের আসন থেকে তিনবারের নির্বাচিত সদস্য শাহনাজ বেগম জেলা পরিষদের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দেন। তাঁর দাবি, দুর্নীতির অভিযোগ জানিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে বারবার লিখিত আবেদন জানিয়েও কোনও সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়েই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
ইস্তফার আগেই ফেসবুকে দীর্ঘ পোস্টে ক্ষোভ উগরে দেন শাহনাজ। সেখানে তিনি লেখেন, “চোর জেলা পরিষদের একজন অংশীদার হয়ে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আপনাদের দেওয়া টার্ম পূর্ণ হওয়ার আগেই আমি সদস্যপদ ত্যাগ করতে বাধ্য হলাম।” তাঁর নিশানায় ছিলেন মূলত জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, যাঁর বিরুদ্ধে আগেও একাধিকবার আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তুলেছিলেন শাহনাজ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহনাজ বেগম মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ ভাঙনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে কংগ্রেসের দখল থেকে জেলা পরিষদ তৃণমূলের কবজায় আসার পর ‘পুরস্কার’ হিসেবে তাঁকে সহ-সভাধিপতির পদ দেওয়া হয়। পাশাপাশি জেলা তৃণমূল মহিলা সভানেত্রীর দায়িত্বও পান তিনি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দলের অন্দরে কোণঠাসা হয়ে পড়েন এই প্রতিবাদী নেত্রী।
![]()
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের উত্থান এবং ২০২১ সালে ২২টি আসনের মধ্যে ২০টিতে জয়, এই রাজনৈতিক পটভূমিতে অধীর চৌধুরীর গড়ে ধস নামে। এখন সেই হারানো জমি ফের দখলের লড়াইয়ে নেমেছেন অধীর। ওয়াকফ ইস্যুকে সামনে রেখে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক পুনর্দখলের কৌশল শুরু হয়েছে, আর সেই সমীকরণেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে শাহনাজের কংগ্রেসে ফেরা।
নিজেকে ‘সাংগঠনিক মানুষ’ বলেই পরিচয় দেন শাহনাজ। কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “আমি ঘরে বসে থাকার মানুষ নই। সংগঠন করতেই রাজনীতি করি, কংগ্রেসে থেকেও সেই কাজই করব।”
যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। মুর্শিদাবাদ বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, “এতে দলের কোনও ক্ষতি হবে না। ওঁর চাহিদা ছিল অন্যরকম। সবকিছু সময়ের সঙ্গে সামনে চলে আসবে।”










