মালদা থেকে মতুয়াদের নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন মোদী

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও বড় আপডেট দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Matua)। মালদা জেলার নিত্যানন্দপুরে আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি মতুয়া সম্প্রদায়কে নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা…

modi-matua-community-signal-malda-rally

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মঞ্চে আবারও বড় আপডেট দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Matua)। মালদা জেলার নিত্যানন্দপুরে আয়োজিত বিশাল জনসভায় তিনি মতুয়া সম্প্রদায়কে নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মতুয়ারা বাংলার এক বড় ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়, যারা বাংলাদেশ থেকে আগত শরণার্থীদের বংশধর।

Advertisements

তাদের নাগরিকত্বের প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। মোদী এদিন স্পষ্ট করে বলেন, “যদি SIR (জাতীয় নাগরিকত্ব রেজিস্টার বা NRC)-এ কোনো মতুয়া ভাই-বোনের নাম বাদ পড়ে, তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। ভারতীয় সংবিধান মেনে CAA (সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট)-এর মাধ্যমে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।”প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, “মতুয়ারা শরণার্থী, কিন্তু তারা ঘুসপেটিয়া নয়।

   

মোদী এলেই ‘মেক ইন ইন্ডিয়ায়’ মালদার আম

তাই তাদের নাগরিকত্বের দায়িত্ব নেবে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশকারী তাদের এই দেশ থেকে তাড়ানো হবে।” এই বক্তব্য মতুয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ বাংলার বিভিন্ন এলাকায় মতুয়াদের প্রভাবশালী ভোটব্যাঙ্ক রয়েছে। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে CAA-এর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি এই সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমর্থন পেয়েছিল, কিন্তু পরে বিলম্ব হওয়ায় কিছু অসন্তোষ জমেছে।

মোদীর এই ইঙ্গিত এখন সেই অসন্তোষ কমাতে সাহায্য করতে পারে।জনসভায় মোদী তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, টিএমসি সরকার মতুয়াদের ভয় দেখিয়ে রাজনৈতিক লাভ করছে, কিন্তু বিজেপি এলে সত্যিকারের সুরক্ষা দেওয়া হবে। “আমরা চাই মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে বাস করুক, তাদের অধিকার পাক। CAA হলো তাদের জন্য একটি সেতু, যা তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত করবে,” বলেন মোদী।

এই বক্তব্যের পটভূমিতে উল্লেখযোগ্য যে, CAA ২০১৯-এ পাস হলেও, বাংলায় এর বিরোধিতা হয়েছে। টিএমসি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেছেন, CAA বাংলায় চালু হবে না, এবং এটি বিভাজনের হাতিয়ার। কিন্তু মোদী দাবি করেন, এটি ধর্মীয়ভাবে নির্যাতিত শরণার্থীদের জন্য, যার মধ্যে মতুয়ারা অন্যতম।মতুয়া সম্প্রদায়ের নেতারা এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন।

মতুয়া মহাসঙ্ঘের এক নেতা বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কথায় আমরা আশান্বিত। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তায় ভুগছি। যদি CAA-এর মাধ্যমে সমাধান হয়, তাহলে বিজেপিকে সমর্থন করব।” অন্যদিকে টিএমসি এই বক্তব্যকে ‘নির্বাচনী কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। টিএমসি নেতা ফিরহাদ হাকিম বলেন, “মোদী মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। CAA বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে।

আমরা মতুয়াদের সুরক্ষা দিয়েছি, বিজেপি শুধু বিভাজন চায়।”এই ঘটনা বাংলার রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। মালদা, যেখানে মুসলিম ও হিন্দু ভোটারদের মিশ্রণ রয়েছে, সেখানে মোদীর ঘুসপেটিয়াদের বিরুদ্ধে কড়া কথা একদিকে হিন্দু ভোট একত্রিত করতে চাইছে, অন্যদিকে মতুয়াদের আকর্ষণ করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬-এর নির্বাচনে মতুয়া ভোট কীভাবে বিভক্ত হয়, তা টিএমসি বনাম বিজেপির লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

Advertisements