শুক্রবার সকালে জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri Fire) জেলার ময়নাগুড়ি শহরের পুরাতন বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আগুনের তাণ্ডবের কারণে বাজারের একাধিক দোকান সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সময় দোকানগুলোতে কর্মরত ব্যবসায়ীরা এবং ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে ছুটে বের হন, এবং কোন ধরনের হতাহতের খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
ময়নাগুড়ি পুলিশ এবং স্থানীয় দমকল বিভাগে খবর পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জলপাইগুড়ি থেকে দমকলের ইঞ্জিন এসে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করে। দমকলকর্মীরা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনও কিছুটা সময় লাগছে কারণ বাজারটি একদম ঘনবসতিপূর্ণ এবং দোকানগুলো প্রাচীন কাঠের তৈরি, যা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ।
ময়নাগুড়ির পুরাতন বাজার এক সময় থেকে স্থানীয় বাণিজ্য ও ছোট ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে হালকা ওজনের পণ্য, ফল-মূল, কাপড়, রান্নার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিক্রি হয়। বাজারের এই অগ্নিকাণ্ড শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়নি, বরং এলাকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ওপরও প্রভাব ফেলেছে। অনেক ক্রেতা যাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী এই দোকানগুলো থেকে ক্রয় করা হতো, তারা এখন অন্য বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।
দমকল বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আরও ইঞ্জিন এবং কর্মী প্রয়োজন হতে পারে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগুন ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে। এছাড়াও, তারা স্থানীয়দেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যেন কেউ দুর্ঘটনার সময় আহত না হন।
স্থানীয়রা বলেছেন, বাজারের কিছু অংশ আগুনের তাণ্ডবে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলির মালিকেরা জানিয়েছেন যে, তারা এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ব্যবসা পুনরায় শুরু করতে সময় লাগবে এবং সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হবে। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তারা স্থানীয়দের অগ্নিকাণ্ডের কাছাকাছি না থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশ ও দমকল কর্মীরা একসাথে কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনও ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
